ঢাকা , সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ , ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ, পিটিআইয়ের শতাধিক কর্মী আটক

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৬ ০১:২১:০৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৬ ০১:২১:০৪ অপরাহ্ন
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ, পিটিআইয়ের শতাধিক কর্মী আটক ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। রোববার (৪ অক্টোবর) করাচির বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশ বেশ কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধ করে এবং দলের নেতাকর্মীদের আটক করে।

দলটির দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে করাচির সাতটি স্থানে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

পিটিআই জানিয়েছে, তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তি, সংবিধান ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান এবং মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগের অবসান।

বিক্ষোভ ঠেকাতে নির্ধারিত স্থানগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন সড়কে দেওয়া হয় ব্যারিকেড। এতে নগরীর কয়েকটি এলাকায় যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটে।

তবে পুলিশি বাধার মধ্যেও করাঙ্গি, করাচি ইস্ট ও করাচি ওয়েস্টসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পিটিআই নেতাকর্মীরা।

করাঙ্গিতে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন পিটিআই করাচির সভাপতি ফাহিম খান, পিটিআই সিন্ধুর অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক রিজওয়ান নিয়াজি এবং সিন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ওভাইস চৌধুরী। বিক্ষোভ শেষে দলটির নেতাকর্মীরা একটি মিছিলও বের করেন।

এ ছাড়া এমপ্রেস মার্কেটের কাছেও পিটিআইয়ের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। সেখানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীও অংশ নেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন এলাকায় জমায়েত ঠেকাতে পুলিশের নানা পদক্ষেপের মধ্যেই এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে করাচি প্রেস ক্লাব ও ‘রেড জোন’-এর আওতাভুক্ত এলাকাগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এতে আশপাশের এলাকায় চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়িচালকদের নগরীর বিভিন্ন অংশে চলাচলের সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

পিটিআইয়ের দাবি, করাচির বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের ৭৫ জনের বেশি নেতা ও কর্মীকে আটক করে বিভিন্ন থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন নারীও রয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি।

এ ছাড়া সিন্ধুর অন্যান্য এলাকা, বিশেষ করে সুক্কুর থেকেও নেতাকর্মীদের আটকের অভিযোগ করেছে পিটিআই। দলটির দাবি, পুরো প্রদেশে আটক পিটিআই নেতা-কর্মীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।

পিটিআই-সিন্ধুর মুখপাত্র মুহাম্মদ আলী বেলুচ পুলিশের এ অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি গ্রেফতার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিধিনিষেধকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মতপ্রকাশ দমনের চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতৃত্বাধীন সিন্ধু সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইমরান খানের মুক্তি, সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদা, জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান এবং মূল্যস্ফীতি থেকে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানানোয় রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেফতার করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। আটক সব পিটিআই নেতা-কর্মীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

করাচি প্রেস ক্লাব ‘সিল করে দেওয়ার’ও সমালোচনা করেন পিটিআই নেতা। তার দাবি, প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।

তিনি বলেন, তাদের বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। সাংবিধানিক ও আইনি পথে পিটিআইয়ের রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

পিটিআইয়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ