১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়বে জি-৭ দেশগুলো
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৩-১০-২০২৬ ১১:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
০৩-১০-২০২৬ ১১:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকায় নিজেদের কৌশলগত মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে শিল্পোন্নত সাতটি দেশের জোট জি-৭। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর দেয়া বিবৃতিতে জোটটি এ তথ্য জানায়। খবর আল জাজিরার।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) মাধ্যমে আগামী চার মাসের মধ্যে যৌথভাবে এই তেল সরবরাহ সমন্বয় করা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, সিদ্ধান্তের প্রথম ২০ দিনের মধ্যে জি-৭ সদস্য ও সহযোগী দেশগুলো এককালীন বড় অঙ্কের ডিজেল বাজারে সরবরাহ করবে।
জরুরি ভিত্তিতে আরও ডিজেল বাজারে ছাড়ার প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আইইএ-র আওতায় পরবর্তী বৈঠকে বসবে বলেও জানিয়েছে জোটটি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের কাছে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ ডিজেল ছাড়তে রাজি হয়েছে বলে জানান। এরপরই জি-৭ এর পক্ষ থেকে এই যৌথ ঘোষণা আসে।
বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত জি-৭ এর সদস্যরা হলো—কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের শীর্ষ চার শক্তি ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্য। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই জোটের পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দাম হু-হু করে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে ইউরোপের দেশগুলো বিষয়টি নিয়ে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন।
ইউরোপীয় দেশগুলো যদি তাদের কাছে থাকা ডিজেল বাজারে না ছাড়ে, তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি আগে থেকেই দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। তবে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে তারা।
মার্কিন অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ছিল ৬ দশমিক ৩৭ মার্কিন ডলার। এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর এই দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছেছিল।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মানদণ্ডে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতার সূচক আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গেছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স