সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দয়া করে আগে নিজের ঘর সামলান, পরে অন্যদের নসিহত করুন।’
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন। পরে বৃক্ষরোপণ ও নদী খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনবহুল একটি দেশে রাজনৈতিক দলের কিছু দুষ্টু লোক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসব ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এতে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। বিএনপি সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।
তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডে শুধু দেশেই নয়, বহির্বিশ্বেও দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অথচ তারাই অন্যদের নসিহত করে বেড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল একাত্তরের রূপে আবারও ফিরে গেছে। তারা মা-বোনদের ইজ্জত হরণ ও হত্যায় মেতে উঠেছে। বিএনপির নেতা-কর্মী ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সময় এসেছে তাদের মুখোশ উন্মোচনের।
দেশে অনেক রাজনৈতিক দল থাকলেও বিএনপিই দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে—এমন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী বিএনপি সরকার গঠন করেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এতে সরকারের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দেশের ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ১৭ বছর স্বৈরাচার সরকার জনগণের কণ্ঠরোধ করে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ বন্যার হাত থেকে সুরক্ষা পাবে। এর ফলে নতুন করে ৩৪ হাজার হেক্টর জমি আবাদযোগ্য হবে। এতে ফসল উৎপাদন প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন বাড়বে এবং শস্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রকল্পটির ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাশয় পুনঃখনন করা হবে। এ ছাড়া ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বক্তব্য দেন।
এর আগে দিনব্যাপী সফরের শুরুতে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে পরশুরামের ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফেনী জেলায় মোট ৫ হাজার ৬৪৩ জনকে কার্ড দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের মধ্যে ১ হাজার ১২ জন কৃষকের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে ১০ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি কৃষক কার্ড গ্রহণ করবেন।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ফেনীতে ২৭৫ জনকে মনোনীত করা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে ছয়জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম, দুজন সেবায়েত এবং দুজন পুরোহিত প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মানী গ্রহণ করবেন।
পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং রোগীদের বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। সফরকালে দলীয় নেতা-কর্মী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে
ফেনীর মুহুরী বাঁধ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী