ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​জনসমক্ষে মুখ ঢেকে চলাফেরা নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৫-০৯-২০২৬ ০৩:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৫-০৯-২০২৬ ০৪:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন
​জনসমক্ষে মুখ ঢেকে চলাফেরা নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল ​ছবি: সংগৃহীত
পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢাকা যেকোনো পোশাক বা আবরণ নিষিদ্ধ করে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে ‘বোরকা আইন’ হিসেবে পরিচিত এই আইনটি মূলত মুখ ঢাকা নেকাব বা বোরকা পরা মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করেই করা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে এক বিবৃতিতে পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও হোসে সেগুরো জানান, মানব পরিচয় এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখ একটি কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

ইউরো নিউজের তথ্যমতে, এই আইনে জনসমক্ষে মুখ সম্পূর্ণ ঢাকতে পারে বা পরিচয় গোপন করতে পারে—এমন যেকোনো পোশাক পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যগত, পেশাগত, শৈল্পিক বা আবহাওয়া সংক্রান্ত কারণে, পাশাপাশি উপাসনালয়, কূটনৈতিক মিশন ও বিমানের ভেতরে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে ছাড় রাখা হয়েছে। এছাড়া লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা মূল্যের কারণে কাউকে জোর করে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করাটাও এই আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের ১৫০ ইউরো থেকে শুরু করে ৩,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হতে পারে বলে বিধান রাখা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট সেগুরো স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি অত্যন্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার দাবি রাখে। ক্ষমতাসীন দক্ষিণপন্থী জোট এবং উগ্র-ডানপন্থী দলগুলোর সমর্থনে গত জুলাই মাসে পার্লামেন্টে বিলটি পাস হয়েছিল, যেখানে বামপন্থী দলগুলো এর বিরুদ্ধে ভোট দেয়।

তবে উগ্র-ডানপন্থী চেগা দলের প্রস্তাবিত এই বিলটির বিরুদ্ধে পর্তুগিজ বার অ্যাসোসিয়েশন, পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের উচ্চ পরিষদ এবং পর্তুগিজ উইমেনস ল ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন তীব্র সমালোচনা করেছিল এবং এটি অসাংবিধানিক হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল।

মধ্য-বামপন্থী সোশিয়ালিস্ট পার্টি (PS), গ্রিন-বাম লিভরে এবং পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে সতর্ক করেছিল যে এটি পর্তুগালে ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিয়া বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে মধ্য-ডানপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি বিলটিকে সমর্থন জানায়।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ