পাটের ভালো দাম পেয়ে খুশি সোনাতলার কৃষকেরা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৩-০৯-২০২৬ ০৩:৩৪:৫২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৩-০৯-২০২৬ ০৩:৩৪:৫২ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
বগুড়ার সোনাতলায় চলতি মৌসুমে পাটের চাষ কমলেও ফলন হয়েছে বাম্পার। গত বছরের তুলনায় হেক্টরপ্রতি ফলন ও পাটের মান ভালো হওয়ায় কৃষকরা এবার ভালো দাম পাচ্ছেন। এতে খুশি এ অঞ্চলের পাটচাষিরা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে দেশি ও তোষা জাতের পাট চাষ হয়েছে। এর মধ্যে যমুনার তীরবর্তী মধুপুর, তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয়েছে।
এবার বিঘাপ্রতি পাটের গড় ফলন হয়েছে সাড়ে ৮ থেকে ৯ মণ। গত মৌসুমে এ ফলন ছিল সাড়ে ৭ থেকে ৮ মণ। বর্তমানে কৃষকরা পাট কাটা, পানিতে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকে পাট শুকিয়ে বাজারেও বিক্রি করছেন। এখন পর্যন্ত প্রতি মণ পাটের সর্বোচ্চ দাম পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা।
তবে গত মৌসুমের তুলনায় এবার পাটের আবাদ কমেছে। গত মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬০ হেক্টরে।
উপজেলার পূর্ব তেকানীর পাটচাষি সানউল ইসলাম আকন্দ জানিয়েছেন, গত বছর তিনি প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এবার একই পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন।
পাটের ভালো দাম পাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি মান ও রঙ ভালো হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, যমুনা নদীর এ অংশে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে প্রায় দেড় কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করেছেন। ভরা মৌসুমে নদীর পানি ঢলে এখানে এসে বাঁধের কারণে আটকে থাকে। এতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষকরা ভালোভাবে পাট জাগ দিতে পারেন। বেশি পানি থাকায় পাটের আঁশও সোনালি রঙ ধারণ করে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, এবার পাটের উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা উৎপাদিত পাটের ভালো দাম পাচ্ছেন। এতে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
এবার পাটের আবাদ কমার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের চাষ কিছুটা কমেছে। তবে উৎপাদিত পাটের মান আগের তুলনায় ভালো হওয়ায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাট চাষ হবে এবং ফলনও বাড়বে বলে আশা করছেন।
সোনাতলা নামকরণের সঙ্গেও পাটের সম্পর্কের একটি লোককথা প্রচলিত রয়েছে। লোকমুখে শোনা যায়, একসময় এ অঞ্চলের সোনালি আঁশ পাটের কারণেই এলাকার নাম হয় সোনাতলা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স