ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​অভিবাসন ও আবাসন নিয়ে ট্রাম্প-মামদানির রুদ্ধদ্বার বৈঠক

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০৩:৫৬:০৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০৩:৫৬:০৪ অপরাহ্ন
​অভিবাসন ও আবাসন নিয়ে ট্রাম্প-মামদানির রুদ্ধদ্বার বৈঠক ​ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে ম্যানহাটনে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুদ্ধদ্বার এ আলোচনায় অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিউইয়র্কে ১২ হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের একটি বড় আবাসন প্রকল্প নিয়ে কথা হয়েছে।

বৈঠক শেষে মামদানির প্রশংসা করেন ট্রাম্প। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অবশ্য নিউইয়র্কের এই মেয়রকে নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তিনি। এমনকি মামদানিকে ‘আমার ছোট কমিউনিস্ট’ ও ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। তবে নির্বাচনে মামদানির জয় এবং পরবর্তী সময়ে দুজনের একাধিক সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে তাদের সম্পর্কের প্রকাশ্য চিত্রে পরিবর্তন দেখা গেছে।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, মামদানি একজন ‘দারুণ মেয়র’ হবেন বলে তিনি আশা করছেন। তার ভাষায়, মেয়র হিসেবে মামদানি ইতোমধ্যে ভালোভাবেই কাজ শুরু করেছেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ট্রাম্প। গত বছর মেয়র নির্বাচনে মামদানির জয়ের পর এ নিয়ে তাদের তৃতীয় প্রকাশ্য সাক্ষাৎ হলো।

আলোচনায় অভিবাসন ইস্যুটিও গুরুত্ব পায়। মামদানি জানান, নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট। ট্রাম্প প্রশাসন যখন বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে হাজারো অভিবাসীর টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিল করছে, তখন এ বিষয়টি নিয়েই তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন।

এ ছাড়া নিউইয়র্কে ১২ হাজার বাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মামদানি জানান, গত ফেব্রুয়ারিতেও তিনি প্রকল্পটি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মামদানি। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কিন্তু নিউইয়র্কের মানুষের জন্য স্বস্তি বা সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেন—এমন সবার সঙ্গেই তিনি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

মামদানির ভাষ্য, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও কাজের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। তারপরও নগরবাসীর স্বার্থে প্রয়োজনীয় জায়গায় সংলাপ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

এদিকে ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফরের সময় হোয়াইট হাউসের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ট্রাম্পের কার্যক্রমের সংবাদ সম্প্রচার সীমিত করে।

মামদানি জানান, যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সব ধরনের সংবাদকর্মীর অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার জন্য তিনি ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন। নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মতামত বা সমালোচনা ভিন্ন হলেও সংবাদমাধ্যমকে আলোচনার পরিসরে রাখা উচিত।

অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের সমালোচনা থেকে জনদৃষ্টি সরাতেই সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তা নাকচ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে বর্জনের কথা বললেও বাস্তবে তারা তা কখনোই করে না। ফলে বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব একটা উদ্বিগ্ন নন।

সূত্র: এনডিটিভি

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ