ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাঁদা ফুলের ভেষজ চা খেলে যে সাত উপকারিতা পাবেন

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২০-০৯-২০২৬ ০৪:০৩:৪৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২০-০৯-২০২৬ ০৪:০৩:৪৮ অপরাহ্ন
গাঁদা ফুলের ভেষজ চা খেলে যে সাত উপকারিতা পাবেন ​ছবি: সংগৃহীত
গাঁদা ফুলের চা অত্যন্ত তৃপ্তিসহকারে খাওয়া যায়। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। গাঁদা ফুলের চায়ে প্রচুর পরিমাণে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, ফ্ল্যাভোনয়েড, লুটেইন এবং বিটা-ক্যারোটিন থাকে।

উৎসবের মরশুমে ঘর সাজানো কিংবা ঠাকুর পুজোয় হলুদ-কমলা রঙের গাঁদা ফুল আমাদের প্রত্যেকের ঘরেই দেখা যায়। তবে এই অতিপরিচিত রঙিন ফুলটি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক বা পূজার উপকরণ নয়। প্রাচীন আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি এক মহৌষধ হিসেবে স্বীকৃত।

সাধারণত ক্যামোমাইল, জাসমিন বা গ্রিন টি’র ভেষজ গুণ নিয়ে চর্চা হলেও, গাঁদা ফুলের পাপড়ি দিয়ে তৈরি সুগন্ধি গাঁদা ফুলের চা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা পালন করে।

শরীর সুস্থ রাখতে গাঁদা ফুলের এই বিশেষ ভেষজ চা তৈরি করবেন, এবং এটি পানের সঠিক নিয়ম জেনে নিন।

গাঁদা ফুলের চায়ের ৭টি উপকারিতা:

চোখের জ্যোতি বাড়াতে ও ছানি প্রতিরোধে
গাঁদা ফুলের পাপড়িতে প্রচুর পরিমাণে ‘লুটেইন’ এবং ‘জিয়াজ্যান্থিন’ নামক উপাদান থাকে। এগুলো মূলত চোখের রেটিনাকে সুরক্ষাবলয় প্রদান করে। নিয়মিত গাঁদা ফুলের চা পান করলে বয়সজনিত চোখের জ্যোতি হ্রাস পাওয়া এবং ছানি পড়ার সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

হজমশক্তি বৃদ্ধি ও পেটের আলসার নিরাময়ে
যারা প্রতিনিয়ত গ্যাসের সমস্যা, অম্লতা বা আইবিএস এ ভোগেন, তাদের জন্য গাঁদা ফুলের চা দারুণ উপকারী। এর প্রাকৃতিক গ্যাস্ট্রো-প্রোটেক্টিভ উপাদান পাকস্থলীর ভেতরে ঘা বা আলসার শুকাতে সাহায্য করে। পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে হজমপ্রক্রিয়াকে মসৃণ রাখে।

শরীরের মেদ ঝরাতে ও ডিটক্সিফিকেশনে
গাঁদা ফুলের চা শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিন বের করে দিতে বা ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে। এটি মেটাবলিজম দ্রুত বাড়িয়ে অতিরিক্ত ফ্যাট বা মেদ ঝরাতে অত্যন্ত সহায়ক।

ক্ষত ও ভেতরের ইনফেকশন দ্রুত শুকাতে
গাঁদা ফুল এ শক্তিশালী অ্যান্টি-সেপ্টিক ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুনাগুণ রয়েছে। মুখে বা জিভে ঘা হওয়া, গলার সংক্রমণ কিংবা পরিপাকতন্ত্রের কোনো ইনফেকশন কমাতে এই চায়ের জুড়ি মেলা ভার।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বৃদ্ধি
গাঁদা ফুলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরের ফ্রি-রেডিক্যালসের প্রভাব নষ্ট করে কোষের ক্ষতি রোধ করে। ফলে এটি ঋতু পরিবর্তনের সময়ে সর্দি-কাশি ও ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিরোধে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তোলে।

ত্বকের অকাল বার্ধক্য দূর ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি
গাঁদা ফুলের চা পানের ফলে ভেতরের টক্সিন দূর হয়, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে ত্বকে। এটি রক্ত পরিষ্কার করে মুখে ব্রণ, কালচে ছোপ ও বলিরেখা পড়তে দেয় না, ফলে ত্বক দেখায় সতেজ ও প্রাণবন্ত।

পিরিয়ডের ব্যথা ও খিঁচুনি লাঘবে
ঋতুস্রাবের সময় যেসব নারী তলপেটে তীব্র ব্যথা বা স্প্যাজমে ভোগেন, তাদের জন্য ইষদুষ্ণ গাঁদা ফুলের চা দারুণ উপশম এনে দেয়। এটি জরায়ুর পেশির খিঁচুনি কমায় এবং মেজাজ বা মুড সুইং নিয়ন্ত্রণে রাখে।

বাড়িতে কীভাবে তৈরি করবেন গাঁদা ফুলের চা?
তিন-চারটি তাজা ও পরিষ্কার গাঁদা ফুলের পাপড়ি (কীটনাশকমুক্ত) অথবা ২ চামচ শুকনো গাঁদা পাপড়ি, ১ গ্লাস পানি, ১ চা চামচ মধু এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস।

১) প্রথমে তাজা গাঁদা ফুলের বোঁটা ও সবুজ অংশ বাদ দিয়ে শুধু পাপড়িগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন।

২) একটি পাত্রে পানি নিয়ে তা ৩-৪ মিনিট ফুটিয়ে নিন।

৩) ফুটন্ত জলের মধ্যে গাঁদা ফুলের পাপড়িগুলো ফেলে গ্যাস বন্ধ করে দিন এবং পাত্রটি ঢেকে ৫-৭ মিনিট রেখে দিন।

৪) পাপড়ির সমস্ত ভেষজ গুণ জলে মিশে গেলে ছেকে নিয়ে তাতে সামান্য মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে ইষদুষ্ণ অবস্থায় পান করুন।

সতর্কতা
গর্ভবতী নারী বা যারা নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ খাচ্ছেন, তারা নিয়মিত এই চা পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। রান্নাঘরের চেনা উপাদানের পাশাপাশি ভেষজ গুণাবলীতে ভরপুর গাঁদা ফুলের চা আপনার প্রাত্যহিক ডায়েটে যোগ করতে পারেন। কেমিক্যালমুক্ত এই ভেষজ পানীয় শরীরকে ভেতর থেকে চাঙা ও রোগমুক্ত রাখতে দারুণ কাজ করে।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ