একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৬-০৯-২০২৬ ০৭:১৯:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৬-০৯-২০২৬ ০৭:১৯:১১ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা সহজতর করতে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পসহ ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের একনেকের তৃতীয় সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভাশেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে পাওয়া যাবে অবশিষ্ট ৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৭টি এবং সংশোধিত প্রকল্প ৫টি।
সভায় সরকার ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে এবং দুটি চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পের সংশোধনও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেছে।
প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুটে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭.২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল করিডোর নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে ১৩.১০ কিলোমিটার পাতাল (অন্ডারগ্রাউন্ড) ট্র্যাক থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের সংশোধিত প্রস্তাব বিবেচনা ও অনুমোদন করা হয়।
লাইন-৫ সাউদার্ন রুটের জন্য সরকার দেবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) থেকে ঋণ হিসেবে আসবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।
২০১৯ সালে অনুমোদিত দুটি চলমান মেট্রো প্রকল্পের প্রাথমিক সম্মিলিত আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৩ হাজর ৭৯৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বর্তমান সম্মিলিত সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যা ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।
৩০ আগস্ট প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির বৈঠকের সুপারিশের পর, গত আগস্টে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবিত ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি ৯ লাখ টাকার তুলনায় এই সংশোধিত চিত্রটি ৯ হাজার ৭৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কম।
মূল লাইন নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন, ভবন, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং সরঞ্জাম সম্পর্কিত ব্যয় পুনরায় মূল্যায়নের পর ১৩ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠায় সংস্থাটি।
বিমানবন্দরকে কামলাপুরের সাথে সংযুক্তকারী এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত একটি উড়াল শাখা বিশিষ্ট ৩১.২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ এর ব্যয় ২০১৯ সালে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা করা হয়েছে।
এই বৃদ্ধি ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৪৬ লাখ কোটি টাকা বা ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সরকারের অনুদান ১৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকায়। অন্যদিকে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ঋণ ১১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়।
সংশোধনে এই ব্যয়ের বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কোভিড মহামারীর সময় নকশা ও দরপত্র প্রস্তুত করতে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল বাস্তবায়নে জটিলতাকে দায়ী করা হয়েছে।
বিস্তারিত নকশা প্রণয়নকালে স্টেশনগুলোর আকার বৃদ্ধি করা হয়, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ও ভেন্টিলেশন শ্যাফট স্থানান্তর করা হয়, রাজারবাগে তিনতলা বিশিষ্ট স্টেশন নির্মাণ এবং নির্মাণের সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় ২০ কিলোমিটার বিকল্প রাস্তা (ডিটুর রোড) অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৮৯ হাজর ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকায়, যা ৪৮ হাজার ৬০৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।
সরকারের অনুদান ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি ১১ লাখ টাকায়, অন্যদিকে জাইকার ঋণ ১৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকায়।
হেমায়েতপুর-আমিনবাজার অংশটি উড়ালপথে হবে, আর আমিনবাজার-ভাটারা অংশটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে পাতালপথে যাবে। প্রকল্পটি মূলত ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ চালুর কথা থাকলেও, এটি এখন ২০৩২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমাপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আজকের সভায় অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ৫টি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২টি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ২টি এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি করে প্রকল্প রয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুমোদিত অপর দুটি প্রকল্প হলো: ৯৪৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘রাজশাহী সড়ক জোনের আওতাধীন জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ এবং ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতাধীন জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (৩য় পর্যায়)’।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো- ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বরিশাল সেনানিবাস, বরিশাল স্থাপন-২য় পর্যায়’ এবং ৩৭৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ’।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২৭০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে ‘খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধন)’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত দুটি প্রকল্প হলো- ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের নারায়নগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়ন’ এবং ৪ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে ‘বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কাজের উন্নত পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক প্রকল্প’।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫২.৮১৮৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে ‘মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে-ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন (২য় সংশোধিত), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তর নির্মাণ (১ম সংশোধিত), ভাসানচরে গ্রিন বেল্ট স্থাপন ও কক্সবাজারে বনায়ন, দেশি মুরগি গবেষণা, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন জোরদারকরণ, অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত), জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন (রংপুর জোন) (১ম সংশোধিত) এবং ৫ম তলা হতে ১০ম তলা পর্যন্ত আরডিএ ভবন নির্মাণ।
এছাড়া জালালাবাদ সেনানিবাস এসআইঅ্যান্ডটির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কোয়ার্টার গার্ড ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ, বন্যা পূর্বাভাস সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সিলেট বিভাগের ডিজিটাল এলিভেশন (৩উ) মডেল প্রস্তুতকরণ (১ম সংশোধন), ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন, মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল, খুলনার অধিকতর অবকাঠামো উন্নয়ন, স্ট্রেন্দেনিং সোসাল প্রোটেকশন ফর ইমপ্রুভড রিজিল্যান্স, ইনক্লুশন এ্যান্ড টারগেটিং (এসএসপিআইআরআইটি) (১ম সংশোধিত)’, বরগুনা জেলা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন ও ডরমিটরি ভবন নির্মাণ, দিনাজপুর জেলা স্টেডিয়ামের অধিকতর উন্নয়ন ও ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং সিলেট-১০ নম্বর কূপ (অনুসন্ধান কূপ) খনন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প রয়েছে।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সরদার এম এ মুহিত, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স