ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড়াইগ্রামে আনারস চাষে ভালো ফলন, কাঙ্ক্ষিত দামে খুশি চাষি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০৩:২৬:৩২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০৪:৩১:৫১ অপরাহ্ন
বড়াইগ্রামে আনারস চাষে ভালো ফলন, কাঙ্ক্ষিত দামে খুশি চাষি ছবি : সংগৃহীত
সমতল ভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ি ফল আনারস চাষে দারুণ সফলতা পেয়েছেন নাটোরের বড়াইগ্রামের মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি বাগানের পাকা আনারস বাজারে বিক্রি করছেন। মাঝারি আকারের আনারসগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমন মিষ্টি। তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষি উদ্যোক্তা প্রতিদিন তার আনারস বাগান দেখতে ভিড় করছেন।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক রফিকুল ইসলাম মল্লিকপুর বিলে ১০ কাঠা জমিতে আনারসের চাষ করেছেন। পুরো জমিজুড়ে সারি সারি গাছে পাকা-আধাপাকা আনারস ঝুলছে। এ সময় গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত রফিকুল বলেন, প্রায় তিন বছর আগে বাজারে আনারস কিনতে গিয়ে তার এ ফল চাষের আগ্রহ জাগে। বছর দেড়েক আগে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে দেড় হাজার আনারসের চারা নিয়ে আসেন। এর মধ্যে কিছু চারা মরে গেছে। আবার কিছু গাছে এবার ফল ধরেনি। সেগুলো বাদে কমপক্ষে ১ হাজার গাছে আনারস ধরেছে এবার। ‘ক্যালেন্ডার’ ও ‘জায়েন্ট কিউ’ জাতের আনারস চাষ হচ্ছে তার বাগানে। ডিজিটালম্যাপ দেখুন

কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, জমিতে আনারসের চারা লাগানোর এক বছর পর ফুল আসতে শুরু করে। এরপর ফল ধরার চার-পাঁচ মাস পর পাকতে শুরু ধরে। এবার তার প্রায় সব গাছে প্রথমবারের মতো আনারস ধরেছে। ইতোমধ্যেই আনারস পাকতে শুরু করেছে। বাগানের বেশিরভাগ গাছের আনারস বাজারে বিক্রিও করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এ ফল চাষে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ, পানি সেচ ও নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। আনারস চাষে আনুপাতিক হারে খরচ কম। দেড় হাজার গাছের চারা কিনে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসতে তার খরচ পড়েছে ৬ হাজার টাকা। চারবার নিড়ানি দিতে হয়েছে, তাতে খরচ পড়েছে ৬ হাজার টাকা। এছাড়া দেড় হাজার টাকার সার-কীটনাশক এবং সেচ বাবদ আরো ৬০০ টাকা খরচ পড়েছে। এ পর্যন্ত তিনি মোট ৫০০ পিস আনারস বিক্রি করেছেন। প্রতি পিস ৫০ টাকা দরে তিনি এ পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকার আনারস বিক্রি করেছেন। বাগানে আরো তিন শতাধিক আনারস রয়েছে।

অন্যদিকে, রাতের আঁধারে তার বাগান থেকে কে বা কারা আরো শতাধিক পাকা আনারস চুরি করে নিয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, আনারসের এক একটি গাছ থেকে কয়েক বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় আগামীতে তার লাভের পরিমাণ আরো বেশি হবে বলে তিনি জানান।

তবে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় মাঝে মাঝে বেকায়দায়ও পড়তে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গাছগুলো প্রথম দিকে ভালোভাবেই বেড়ে উঠছিল। তবে একটা সময় এসে গাছের গোড়া পচা রোগ দেখা দেয়।

এতে কিছু গাছ মরেও যায়। জেলায় প্রথম আনারস চাষ হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষসহ কৃষি উদ্যোক্তারা প্রায়ই তার আনারস বাগান দেখতে আসেন বলে তিনি জানান।

গোপালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ভরতপুর গ্রামের আকবর আলী বলেন, মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম তার জমিতে আনারস চাষ করেছেন। আনারস তো পাহাড়ি এলাকায় চাষ হয়। তাই প্রথমে বিশ্বাস না হলেও পরে নিজের চোখে দেখে এসেছি, কিছু আনারস কিনেও এনেছি। আনারসগুলো খেতে বেশ সুস্বাদু।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ জানান, আমাদের উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আনারস চাষের উপযোগী বলেই মনে হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ উপজেলায় আনারস চাষে সফলতা পাওয়া গেছে। কৃষকদেরকে আনারস চাষে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ