ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড. ইউনূসের প্রতি সরকারের কোনো অনুরাগ-বিরাগ নেই: ডা. জাহেদ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৫-০৯-২০২৬ ০১:৫০:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৫-০৯-২০২৬ ০৩:০৫:৪০ অপরাহ্ন
ড. ইউনূসের প্রতি সরকারের কোনো অনুরাগ-বিরাগ নেই: ডা. জাহেদ ​ছবি: সংগৃহীত
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করসংক্রান্ত মামলায় সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতের এবং মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি সরকারের অনুরাগ কিংবা বিরাগের প্রশ্নও এখানে নেই।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। 

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার ঋণের কর মওকুফের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ এবং এ নিয়ে করা দুটি রিটের প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক জানতে চান, এই পরিস্থিতিতে গ্রামীণ কল্যাণের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকারের কোনো বিশেষ বার্তা আছে কি না।

জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, খেয়াল করবেন, এটা আদালতের ব্যাপার এবং একটু মিসপারসেপশন ছিল। এটা এখন ডিটেইলড অনেকের সামনে এসেছে যে, এই কর মওকুফের ব্যাপারে রায় কী হয়েছিল, সেই রায়টা কেন তখন কার্যকর হয় নাই, ইন্টারিমের সময় ছিল, এখন তাদেরকে দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ওই কর পরিশোধ করতে হবে। এটা আদালতে আছে, হাইকোর্টের রায় হয়েছে, তাদেরকে ওই করটা দিতে হবে। তারা নিজেরাই বাদী হয়ে এই করটা দিতে চান নাই। সরকারের এখানে আসলে কিছু করার নেই।

মামলার পরবর্তী কার্যক্রমও আদালতের নিয়মেই চলবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সরকারের কিছু করার নেই, কারণ এখন যে মামলা তার গতিতে চলবে। তারা হয়তো এটা নিয়ে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারেন। যদি সেটা তারা সাসটেইন করতে না পারেন, তাহলে তাদেরকে এটা দিতে হবে।

এ বিষয়ে সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের কোনো রকম ইনভলভমেন্ট নেই, কারণ ড. ইউনূস বা আর কেউ কারো প্রতি কোনো অনুরাগ-বিরাগের প্রশ্ন নাই।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এটা যেহেতু বিচার বিভাগের ব্যাপার, আমরা বিশ্বাস করি এবং আপনারা অনেক ক্ষেত্রেই দেখবেন যে বিচার বিভাগ তার স্বাধীনভাবে যে দায়িত্ব পালন করার কথা, সেটা তারা করছেন।

ফাঁসির রায়ে প্রতিশোধস্পৃহা নেই 

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালতের ফাঁসির রায় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকারের আলাদা করে কিছু বলার নেই। মামলায় সরকারের প্রসিকিউশন টিম কাজ করছে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির ফাঁসির রায় দেখে আনন্দিত হওয়ার চেয়ে সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেটা দেখতে চাই অনেকে আমরা বলি না যে, ফাঁসির রায় দেখে আমরা ভীষণ খুশি হয়ে গেছি। কারো ফাঁসির রায় দেখে আসলে ভীষণ খুশি হওয়ার চাইতে যে জিনিসটা ইম্পর্টেন্ট আমার কাছে মনে হয়, সেটা হচ্ছে আমরা আমাদের সমাজের ন্যায়বিচারটা নিশ্চিত করতে পারছি কি না।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে যে বলেছিলাম- আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই, সেটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটা আমরা দেখতে চাই।

স্থানীয় নির্বাচনে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডা. জাহেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক ভাবে সংসদ ও রাষ্ট্রপতি, এই ২টি নির্বাচন করতে পারে। অন্যান্য নির্বাচনে সরকারের সাথে কোলাবরেট করে থাকতে হয়। সরকার নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা করে নির্বাচন করবে। এটা কোনো সংঘাত নয়।

তিনি বলেন, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দল অংশ নিচ্ছে না; নির্বাচন করছে ব্যক্তিরা। কে কোন দল করছে, এটা কোনো ইস্যুই নয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘সম্পর্ক সহজীকরণের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাজাপ্রাপ্তদের ফেরত দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বর্বরতার সঙ্গে জড়িতরা বিদেশে আরামের সঙ্গে জীবনযাপন করে এবং বাণী প্রসব করে, যা দেশের মানুষকে হার্ট করে।

এছাড়া ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মোবাইল ফোন ব্যবহার হয়—এটা অসত্য তথ্য বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র কখনো ক্রিপ্ট-ট্রেডিংকে সমর্থন করে না। ক্রিপ্টো তৈরি হয়েছে স্টেটের অর্থকে বাইপাস করার জন্য।

এদিকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যাপারে গৃহীত পদক্ষেপও বর্ণনা করেন ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধে পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড গত ১৪ দিনে ১১ হাজার ১৮৮টি অভিযান পরিচালনা করেছে। ৬২৩টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ডেসকো, নোসকোসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো ৩৭৪টি অভিযান পরিচালনা করেছে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ