কর্ণফুলী ইপিজেডে দুই দশকে রপ্তানি ১৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৩-০৯-২০২৬ ১০:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
১৩-০৯-২০২৬ ১০:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দুই দশক পূর্ণ করেছে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কর্ণফুলী ইপিজেড)। ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইপিজেডটির উদ্বোধন করেন।
যাত্রার ২০ বছরে এখান থেকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কর্ণফুলী ইপিজেডের ‘দুই দশকের রূপান্তর ও বিকাশ’ তুলে ধরে এসব তথ্য জানানো হয়।
২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে প্রথম পণ্য রপ্তানি করে পাওলো ফুটওয়্যার (বিডি) লিমিটেড। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৯.৮৬ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রম ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১৫৬.৪৬ মিলিয়ন ডলারে।
ইপিজেডটির রপ্তানি পোশাকশিল্পে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ব্যাগ, আন্ডারগার্মেন্টস, ফ্যাশন ও সেফটি শুসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এসব পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয়।
কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানান, একসময় চিটাগাং স্টিল মিলসের জায়গায় গড়ে উঠেছে এই ইপিজেড।
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা কারণে লোকসানে পড়ে ১৯৯৮ সালে মিলটি লে-অফ ঘোষণা করা হয়। পরে ১৯৯৯ সালের ৭ জুলাই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, পরিত্যক্ত শিল্পাঞ্চলকে পুনরুজ্জীবিত করতে ২০০৪ সালে দুই ধাপে স্টিল মিলের ২২২.৪২ একর জমি বেপজার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুরনো স্থাপনা সরিয়ে সেখানে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের বিনিয়োগকারীরা কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগ করেছেন।
২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১.৯১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দিয়ে শুরু হওয়া ইপিজেডটিতে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৭৮৭.৩৩ মিলিয়ন ডলারে।
কর্ণফুলী ইপিজেডে ২৫৮টি শিল্পপ্লট ও পাঁচটি স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি ভবন রয়েছে। সব প্লট ও ভবন বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৪০টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি শতভাগ বিদেশি, তিনটি যৌথ এবং আটটি দেশীয় মালিকানাধীন। আরো পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন। ইপিজেডটিতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে আরো প্রায় এক লাখ মানুষের।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স