ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন
যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার পরিকল্পনা ইউক্রেনের
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৭-০৯-২০২৬ ০৬:৪২:৪৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৯-২০২৬ ০৬:৪২:৪৩ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে অর্থের বিকল্প উৎস হিসেবে পর্নোগ্রাফি শিল্পকে বৈধ করার পরিকল্পনা করছে ইউক্রেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে জানা গেছে, দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙা রাখা এবং সংশ্লিষ্ট খাত থেকে কর আদায়ের মাধ্যমে যুদ্ধ তহবিল বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্লামেন্টে একটি বিল তোলা হয়েছে।
ইউক্রেনে বর্তমানে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ ও বিতরণ সম্পূর্ণ বেআইনি, যার শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আইনি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদনভিত্তিক কনটেন্টের বাজার ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে।
আইনি জটিলতার কারণে একদিকে নির্মাতারা ব্ল্যাকমেইল ও দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সংস্কারে ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অর্থবিষয়ক কমিটির প্রধান ও এমপি ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক পর্নোগ্রাফি বৈধকরণের প্রস্তাব এনেছেন।
ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াকের হিসাব অনুযায়ী, খাতটি বৈধ করা হলে সরকার বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কর রাজস্ব পেতে পারে। সংগৃহীত এ অর্থ দিয়ে সেনাবাহিনীর জন্য প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কেনা সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।
তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ইউক্রেনের প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটর জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম 'অনলি ফ্যানস' থেকে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেন। পরবর্তীতে দেশটির সরকার ক্রিয়েটরদের কর নিবন্ধনের নির্দেশ দিলেও, কর দিতে গিয়ে অনেকে বেআইনি কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে ফৌজদারি মামলার মুখে পড়েন।
আইনি এই অসংগতি দূর করতে অনলাইনে একটি পিটিশন দাখিল করা হলে দ্রুততম সময়ে ২৫ হাজারের বেশি নাগরিক তাতে স্বাক্ষর করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিষয়টি পার্লামেন্টে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াকসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতার উত্থাপিত বিলটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ইউক্রেনীয় পার্লামেন্টের প্রথম দফার পাঠে অনুমোদন পায়। বর্তমানে এটি দ্বিতীয় দফার আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে যুদ্ধের অতিরিক্ত অর্থ সংস্থানের পথ সহজ হবে, যদিও বিষয়টি দেশটির সামাজিক ও ধর্মীয় মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স