ঢাকা , সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​কলকাতায় বাংলাদেশিদের হোটেল জটিলতা, হাসপাতালগুলোর উদ্যোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ০১:০৪:৩৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ০১:০৬:১৬ অপরাহ্ন
​কলকাতায় বাংলাদেশিদের হোটেল জটিলতা, হাসপাতালগুলোর উদ্যোগ ​ছবি: সংগৃহীত
ভিসা ও আবাসন সমস্যাসহ নানা কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশিদের আগমন কমে যাওয়ায় চিকিৎসা পর্যটনে হঠাৎ বড় ধরনের ধস নামার পর ব্যবসা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে হাসপাতালগুলো।

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, এমন পরিস্থিতিতে কলকাতার একাধিক হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তামূলক অনুমোদন বা কাগজপত্র রয়েছে এমন নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুকিংয়ের বিষয়ে সরাসরি পরামর্শ দেবেন।

একইসঙ্গে কলকাতার হাসপাতালগুলো তাদের কাছাকাছি হোটেল ও লজের সঙ্গে যৌথ চুক্তিও করছে; যাতে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনদের আবাসন সংকট কমে।

খবরে বলা হয়, কলকাতা যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য বাংলাদেশ উপ-হাই কমিশনের জারি করা একটি সতর্কবার্তার পরেই মূলত হাসপাতালগুলো এই পদক্ষেপ নিয়েছে। উপ-হাই কমিশনের সতর্কবার্তায়, কলকাতা যাত্রার আগেই বাংলাদেশিদের আইনি অনুমোদনপ্রাপ্ত নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুকিং নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে গত ১৯ অগাস্ট ভয়াবহ আগুনে ৭ বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নানা অনিয়মের অভিযোগে কম বাজেটের প্রচুর হোটেল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এতে কলকাতা ভ্রমণে গিয়ে একটু সস্তায় যারা হোটেলে থাকতে চান, তারা মারাত্মক আবাসন সমস্যায় পড়েন।

এর প্রেক্ষিতেই কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাই কমিশন ওই নির্দেশনা জারি করেছিল।

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, কলকাতা নগরীর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ধারণা, বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশের পক্ষে এই নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা কিছুটা কঠিন। কারণ তাদের অনেকেই সড়কপথে ভারতে চিকিৎসা নিতে যান এবং কলকাতা ও তার আশেপাশের এলাকায় কম খরচে থাকার জায়গা খোঁজেন। ফলে প্রায়শই অনিরাপদ হোটেল বা গেস্ট হাউসে উঠতে হয় তাদের।

খবরে দাবি করা হয়, কলকাতার নিউ আলিপুরে অবস্থিত বিপি পোদ্দার হাসপাতাল কর্মকর্তাদের একটি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে যাবে। পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার এই হাসপাতালটি নিজেদের ক্যাম্পাসের কাছেই বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নিজস্ব আবাসিক সুবিধাও গড়ে তুলছে।

হাসপাতালটির গ্রুপ উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, “বাংলাদেশ থেকে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসা সফরকে আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে আমরা হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। যেহেতু রোগীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমরা হাসপাতালের পাশেই সুসংগঠিত নিরাপত্তাবেষ্টনী সম্বলিত নিজস্ব থাকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। খুব দ্রুত এসব আবাসন চালু হবে বলে আশা করছি।”

কলকাতার একই এলাকার আরেক উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালও বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। তারাও বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আলিপুর এলাকার একাধিক গেস্ট হাউজ ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের সিইও এবং অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি রূপক বড়ুয়া বলেন, “নিরাপদ হোটেলে ওঠার গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা বাংলাদেশিদের সচেতন করার পরিকল্পনা নিয়েছি। নির্দেশনামা অনুসারে ভ্রমণের আগেই যেন বুকিং করা যায়, সে জন্য আগামী দুই সপ্তাহে আমাদের এখানে আসার কথা রয়েছে এমন রোগীদের আমরা আলিপুর এলাকার গেস্ট হাউজ ও হোটেলের একটি তালিকা পাঠিয়ে দিচ্ছি। অনেকেই ইতিমধ্যে আমাদের কাছে সাহায্য চেয়েছেন, আবার কেউ নিজেরাই রুম বুক করে ফেলেছেন।”

কলকাতার কসবা এলাকার রুবি জেনারেল হাসপাতাল আগেও বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলতে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল। তারা এখন আগ্রহী রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আলাদা একটি বিশেষ ডেস্ক চালু করছে। হাসপাতালটির অপারেশন্স বিভাগের চিফ জেনারেল ম্যানেজার শুভাশিস দত্ত বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে রোগীদের সাথে কথা বলা শুরু করেছি এবং হাসপাতালের কাছের নিরাপদ আবাসনগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছি। ভ্রমণের আগেই যেন তারা রুম বুক করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা সাহায্য করছি। ভাগ্যক্রমে আমাদের এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপদ আবাসন আছে।”

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ