ঢাকা , রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমিনবাজারে হামলায় এসবি সদস্য নিহত, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০৩:৩২:৩৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০৫:১৬:১৪ অপরাহ্ন
আমিনবাজারে হামলায় এসবি সদস্য নিহত, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ​ছবি: সংগৃহীত
সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় মারধরের ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সদস্য মো. আলতাব হোসেন নিহত হয়েছেন। এ সময় তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলতাব হোসেন রাজধানীর মালিবাগে এসবি কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুল ইসলামও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আলতাব হোসেনের বাড়ি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশাপাশি বড়দেশিতে নিজের পাঁচ শতাংশ জমির ওপর টিনশেডের একটি কারখানা গড়ে সেখানে মিনি গার্মেন্টসের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

যেভাবে হামলার সূত্রপাত

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মদিনা সিটি এলাকায় আলতাবের দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা রয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে মসজিদের সামনে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের কাছে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে কয়েকজন মারধর করছিলেন। অটোরিকশা ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ির পাশ কাটানোকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল বলে পরিবারের দাবি।

বিষয়টি দেখে আলতাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি জানতে চান। পরিবারের দাবি, ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা লোকজন গ্যারেজ মালিককে মারধর করছিলেন। আলতাব তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজের পরিচয় পুলিশ সদস্য হিসেবে দেন। এরপরও তাকে চড় মারা হলে কানে আঘাত পান। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে নিজের কারখানায় ফিরে যান।

ঘটনার কথা জানতে পেরে তার ছোট ছেলে আরিফুলও বাবার সঙ্গে কারখানার বাইরে আসেন। এ সময় আলতাবের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম সেখানে ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে এসে থামে। পরিবারের দাবি, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। তবে হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, আলাউদ্দিন নামে একজন প্রথমে আরিফুলকে মাটিতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। একই সময়ে আলতাবকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়।

পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘সাদা গাড়িতে এসে নেশা করতেন’

নিহতের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, ছুটির কারণে তার বাবা সেদিন বাড়িতে ছিলেন এবং পরে কারখানায় গিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, সাদা রঙের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়মিত তাদের কারখানার আশপাশে ঘোরাফেরা করত। গাড়িটিতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকতেন।

শরিফুলের আরও অভিযোগ, কারখানার পাশে বালু ফেলে একটি খোলা জায়গা তৈরি হয়েছে। ওই জায়গায় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিয়মিত নেশা করতেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, গ্রেপ্তার একজন

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় এসবির এক সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানান, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

তিনি বলেন, আবুল কাশেম, ‘কুত্তা মিজান’সহ আরও ১০ থেকে ১৫ জনের ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ