চাঁদপুরে দাম কমলো ইলিশের
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৫-০৯-২০২৬ ০৪:০৭:০৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৫-০৯-২০২৬ ০৪:০৭:০৩ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
ইলিশের ভরা মৌসুমে চাঁদপুরে কিছুটা কমেছে রুপালি ইলিশের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ইলিশের দাম কমেছে প্রায় ২০০ টাকা। এতে চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটসহ মতলব উত্তরের বিভিন্ন আড়তে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে নদীতে ইলিশের সরবরাহ আশানুরূপ না বাড়ায় এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরেই রয়েছে সুস্বাদু এ মাছ।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) ছুটির দিনে সকাল থেকেই চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে মাছঘাটে এসে ইলিশ কিনতে দেখা যায়। দাম কিছুটা কমায় অনেকেই ইলিশ কেনার আগ্রহ দেখালেও চড়া দামের কারণে কেউ কেউ ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।
শনিবার চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাট এবং মতলব উত্তরের আমিরাবাদ ও বাবুরবাজারের বিভিন্ন আড়তে সরেজমিনে দেখা যায়, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে একই আকারের ইলিশের দাম ছিল প্রায় ২৭০০-২৮০০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা কমেছে।
তবে ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের সরবরাহ এখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। অল্পসংখ্যক ইলিশ নিয়ে আড়তে চলছে হাঁকডাক করে বেচাকেনা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজারে ইলিশের দামও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
ঢাকা থেকে চাঁদপুরে বেড়াতে আসা ক্রেতা শামীম আহমেদ বলেন, ‘বন্ধুদের নিয়ে তিন নদীর মোহনায় ঘুরতে এসেছেন। মাছঘাট কাছে হওয়ায় ইলিশ কেনার ইচ্ছে হয়েছে। আগের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে, তবে আরও কমানো দরকার।’
তার মতে, ইলিশের দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা হলে সাধারণ মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে ইলিশ কিনতে পারবে।
ষাটনল জেলেপাড়ার জেলে টিটু বর্মণ ও দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে; তবে আগের মতো পর্যাপ্ত না। জেলেরা ঘাটে ফিরলেও অনেক সময় আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে লাভ কমে যাচ্ছে।’
নদীতে ইলিশের পরিমাণ বাড়লে বাজারেও সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
ইলিশ ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, ‘নদীতে ইলিশের পরিমাণ বাড়লে বাজারে সরবরাহও বাড়বে। তখন স্বাভাবিকভাবেই দাম আরও কমে আসতে পারে। বর্তমানে যে পরিমাণ ইলিশ ঘাটে আসছে, তা চাহিদার তুলনায় কম। এ কারণে দাম এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে নদীতে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হলে কেজিপ্রতি ইলিশের দাম আরও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ভোক্তাদের পাশাপাশি স্বস্তি ফিরবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জেলেদের মধ্যেও।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স