আসিফ মাহমুদের সময়ের নিয়োগ-পদোন্নতির নথি চাইল দুদক
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৩-০৯-২০২৬ ০৬:৩৫:২৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৩-০৯-২০২৬ ০৭:২৫:২৭ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসহ বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে চার ধরণের নথিপত্র তলব করে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালাম স্বাক্ষরিত এই পত্রে চাহিদাকৃত সমস্ত নথিপত্র আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে তলব করা নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পাদিত যাবতীয় নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট স্মারকমূলে বদলি সংক্রান্ত সত্যায়িত ছায়ালিপি, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল ও পদায়ন সংক্রান্ত নথিপত্র এবং ঢাকা, বগুড়া, বরিশাল, পাবনা, ধামরাই ও নরসিংদী জেলায় কর্মরত সুনির্দিষ্ট সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নথি।
এর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও উপ-সচিব মো. মাসুম আহমেদসহ বেশ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। বিষযটি নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে গঠিত চার সদস্যের অনুসন্ধান টিমের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপ-সহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন পদায়নের আদেশের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির কথা বলে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পছন্দসই স্থানে পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। বদলি-পদোন্নতির পাশাপাশি টেন্ডার ও কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমীর (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ, ইব্রাহিম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নাকিমউদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই) এবং আলী হোসেনের (নরসিংদী) সমন্বয়ে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হতো।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করে তিনি জানান, উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়ন বা পদোন্নতিতে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কোনো অনুমোদন লাগে না, সচিবের মাধ্যমে এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পিএসসির সুপারিশ অনুযায়ী মেধা তালিকা তৈরির দায়িত্বও সচিবের। আইন ও বিধিসম্মতভাবেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে যেকোনো তদন্তে সব ধরণের নথি সরবরাহ করতে নিজের প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স