নাসিরের ভাগ্যের চাকা ঘুরাল ‘টকমিষ্টি সর দই’
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৩-০৯-২০২৬ ০২:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৩-০৯-২০২৬ ০২:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী জীবনে লোকসানের পর দেশে ফিরে ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে নাসিরউদ্দীন শেখের। কোনো কৃত্রিম উপাদান ছাড়া খাঁটি গরুর দুধের ‘টকমিষ্টি সর দই’ তৈরি করে বাজিমাত করেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ গ্রামের এই উদ্যোক্তা। তাঁর দইয়ের স্বাদ ও মান স্থানীয় সীমানা ছাড়িয়ে এখন ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের বিভিন্ন জেলায়।
উদ্যোক্তা নাসিরউদ্দীন জানান, মালয়েশিয়ায় ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির পর ২০২০ সালে দেশে ফেরেন তিনি। প্রথমে গাভি পালন এবং পরে দুধ-চা বিক্রি শুরু করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। এরপর বিকল্প হিসেবে দই বানানোর উদ্যোগ নেন। প্রাথমিক অবস্থায় কয়েক কেজি দুধ দিয়ে পরীক্ষামূলক দই তৈরি শুরু করলে ব্যতিক্রমী স্বাদের কারণে দ্রুতই ক্রেতাদের নজর কাড়েন।
বর্তমানে প্রতিদিন দুই মণ দুধ থেকে ৬০ কেজি দই তৈরি করেন নাসির। দোকান থেকে প্রতিদিনের তৈরি দই দিনেই বিক্রি হয়ে যায়। প্রতি কাপ দই ৩০ ও প্রতি কেজি সর দই বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়। নিজস্ব খামারের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে চাহিদা মেটাচ্ছেন তিনি। আলফাডাঙ্গা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ও নড়াইলের লোহাগড়া থেকে দইপ্রেমীরা প্রতিদিন ছুটে আসছেন তার দোকানে। বিয়েসহ নানা সামাজিক আয়োজনে মিলছে বড় বড় অর্ডার।
টগরবন্দ গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, নাসির উদ্দীনের টকমিষ্টি সর দই অত্যন্ত সুস্বাদু। বাড়িতে কোনো অতিথি এলে এ দই দিয়ে আপ্যায়ন করা এখন আমাদের রীতিতে পরিণত হয়েছে। কাশিয়ানী থেকে আসা ক্রেতা মেহেদী হাসান জানান, সাধারণ বাজারের দইয়ের চেয়ে এর স্বাদে স্পষ্ট ভিন্নতা ও মান বজায় থাকায় তিনি প্রায়ই এখানে দই খেতে আসেন এবং পরিবারের জন্য নিয়ে যান।
ইউপি সদস্য শামীম মল্লিক বলেন, এ দই আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্ডার দিয়ে এ দই নিয়ে থাকি। এ দই এখন দিনে দিনে পরিচিত হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, খাঁটি গরুর দুধ দিয়ে তৈরি করায় এ দইয়ের গুণগত মান চমৎকার। দেশীয় এই সম্ভাবনাময় ঐতিহ্য সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স