ক্লিন কলাপাড়া গড়তে ইতিবাচক পথে হাঁটছেন পৌরবাসী
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০১-০৯-২০২৬ ০৩:২৫:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০১-০৯-২০২৬ ০৩:২৫:৪১ অপরাহ্ন
ফোকাস বাংলা নিউজ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরের ৬০ শতাংশ পরিবার এখন ক্লিন কলাপাড়া গড়তে ইতিবাচক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। ইতিবাচক সহায়তার পথে এগিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আর এ কারণেই শহরের প্রাণখ্যাত তিনদিকে বহমান একমাত্র ড্রেনেজ খালটিতে স্বচ্ছ পানি প্রবাহের গতি সচল হচ্ছে। খালটির দুইপাড়ের অধিকাংশ বাসীন্দারা এখন আর পারিবারিক থেকে শুরু করে পলিথিন-প্লাস্টিক বর্জ্য খালে ফেলছেন না। তাঁরা প্রতিদিনকার বর্জ্য পৌরসভা ও আলভিনা কর্পোরেশনের যৌথ পরিচালনায় দেওয়া নির্দিষ্ট বালতিতে জমা রাখছেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সংগ্রহ করে ডাম্পিং স্পটে নিয়ে ফেলছেন। একটি শৃঙ্খল ও ক্লিন কলাপাড়া গড়তে অধিকাংশ পৌরবাসীর এমন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে সচেতন সমাজসহ পরিবেশকর্মীরা স্বস্তিবোধ করছেন। তারা প্রশংসা করছেন এমন উদ্যোগ এবং পৌরবাসীর ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য।
যেখানে দুই-তিন বছর আগে ড্রেনেজ খালটি পলিথিন-প্লাস্টিসহ গৃহস্থালি বর্জ্যরে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে ময়লা-আবর্জনায় একাকার হয়েছিল। সেখানে স্লুইস সংযুক্ত একমাত্র ড্রেণেজ খালটিতে এখন জোয়ার ভাটায় স্রোত বয়। যদিও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ খালটির বৃহৎ অংশ দুই দফা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেছে। তারপরে বর্জ্য ফেলা বন্ধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ায় এখন এর সুফল পাচ্ছেন পৌরবাসী। কমেছে মশার উপদ্রব। কমেছে দূর্গন্ধ। গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে শহর পরিচ্ছন্ন রাখার এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন। তার পরামর্শেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
প্রথমে সংক্ষিপ্ত পরিসরে শুরু হলেও এখন অন্তত ৬০ শতাংশ পরিবার বর্জ্য সংরক্ষণ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে দিচ্ছেন। যেখানে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন মাত্র দুই ট্রাক (৫টন) বর্জ্য সড়কের ডাস্টবিন থেকে সংগ্রহ করে ডাম্পিং স্পটে ফেলা হতো। সেখানে এখন প্রায় ৭ ট্রাক (১৫ টন) বর্জ্য বাসাবাড়ি থেকে সংগৃহীত হচ্ছে। এই ১০ টনের মতো বর্জ্য প্রতিদিন শহরের পানি নিষ্কাশনের ড্রেণেজ খাল ও আন্ধারমানিক নদীতে ফেলা হতো।
প্রথম দিকে তেমন সাঁড়া মেলেনি। তারপরও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও আলভিনা কর্পোরেশন যৌথভাবে সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে একাধিক সভা করে এমন উদ্যোগতে থমকে যেতে দেননি। গত ২৩ আগস্ট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক সভায় প্রশংসনীয় এমন উদ্যোগের প্রধান উদ্যোক্তা মুশফিকুর রহমান বিশ^াস লিটু জানান, বর্তমানে শহরের নয়টি ওয়ার্ডেই শহর ক্লিন রাখার এই কর্মকান্ড সচল রয়েছে। যেখানে সাতটি ভ্যান গাড়িতে প্রতিদিন ৬ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী, একজন সুপারভাইজার, ৪ জন অফিস কর্মী কাজ করছেন। বর্জ্য সংগ্রহের জন্য তিন হাজার পাঁচ শ’ পরিবারকে ১৫ লিটার ধারন ক্ষমতার একটি করে বালতি সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি জানান, কাগজপত্রে এই পৌরসভায় ৪৭৭৭টি হাউজহোল্ড থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা অন্তত ১১ হাজার। তবে মানুষের সচেতনতার পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা বর্জ্য খালে কিংবা নদীতে ফেলানোর প্রবণতা অন্তত ৬০ শতাংশ কমে এসেছে। প্রতিদিন পারিবারিক এই বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিমাসে পরিবার প্রতি মাত্র এক শ’ টাকা সেবামূল্য ধরা হয়েছে।
আলভিনা কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ভ্যানগাড়ি, বালতি কেনাসহ বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ ও বাসায় পৌছে দিতে এককালীন প্রায় দশ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এরপরে শুরু থেকে প্রতিমাসে স্টাফ বেতনসহ বিভিন্ন খরচ নিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। তবে প্রতি মাসে খরচ ক্রমশ বাড়ছে। জুন মাসে সেবমূল্য থেকে মোট দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৮০ টাকা কালেকশন হয়েছে। অথচ ওই মাসে মোট খরচ হয়েছে তিন লাখ ৩৬ হাজার ৪০ টাকা। তারপরও ইতিবাচক চিন্তা নিয়ে পৌরসভার সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজের শহরকে ক্লিন রাখতে পরিবেশ বান্ধব মডেল শহর গড়তে উদ্যমী মানসিকতা দিয়ে লিটু বিশ^াস তার টিম নিয়ে লড়াই করছেন। তবে শহরের মধ্যে বর্জ্য সংগ্রহ করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছে বলেও লিটু বিশ^াস জানান। তার দাবি অন্তত ৯০ শতাংশ পরিবার শহরকে রক্ষায় পরিচ্ছন্নতার এই কাজে মানসিকভাবে সমর্থন করলে শহরটি একটি মডেল পৌরশহরে পরিণত করা সম্ভব হবে।
গৃহিনী মাকসুদা পারভিন বলেন,‘ প্রতিদিন আমরা পরিচ্ছন্ন কর্মীর সংকেত পেলেই বালতি বোঝাই ময়লা দরজার সামনে রাখি। কর্মীরা এসে নিয়ে যায়। এতে স্বস্তি এসেছে। এর আগে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা বাসা থেকে অনেক দূরে গিয়ে রাস্তায় থাকা ডাস্টবিনে ফেলতে হতো। এনিয়ে একটা টেনশন কাজ করত।’ এমন উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
পরিবেশবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা কলাপাড়াবাসীর সংগঠক নজরুল ইসলাম জানান, শহরকে বাঁচাতে শহরবাসী ক্লিন কলাপাড়া গড়তে যেভাবে এগিয়ে এসেছেন, এটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। শহরের একমাত্র ড্রেনেজ খালটির পানির প্রবাহ সচল রাখতে যে কোন মূল্যে বর্জ্য ফেলা স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখতে হবে। কলাপাড়া পৌরসভা ও আলভিনা কর্পোরেশন যে পদক্ষেপটি নিয়েছে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নজরুল ধন্যবাদ জানান, প্রধান উদ্যোক্তা মুশফিকুর রহমান লিটু বিশ^াসকে।
কলাপাড়া পৌরসভার প্রশাসক মোঃ আরিফুজ্জামান জানান, শহরকে পরিচ্ছন্ন এবং বাস উপযোগী রাখতে খালে, ড্রেনে কিংবা নদীতে কোন ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না। পৌরবাসী ক্রমশ এই কাজকে সমর্থনে এগিয়ে আসছেন। তিনি আশা পোষণ করেন, যে কোন মূল্যে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রয়োজনে খালে কিংবা নদীতে কিংবা ড্রেনে পলিথিন-প্লাস্টিকসহ পারিবারিক কোন বর্জ্য ফেললে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স