ঢাকা , সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ , ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি চরমে

গ্যাস সংকটে এক মাস বন্ধ আরপিসিএল বিদ্যুৎকেন্দ্র

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ১২:২৮:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ১২:২৮:০০ অপরাহ্ন
গ্যাস সংকটে এক মাস বন্ধ আরপিসিএল বিদ্যুৎকেন্দ্র ফাইল ছবি
গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন এক মাসেরও বেশি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া এ অঞ্চলের অন্য দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এতে বিভাগজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। জেলা শহরে দৈনিক ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে দাবি গ্রাহকদের। লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষজন।

জানা যায়, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শম্ভুগঞ্জ এলাকায় ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণকাজ শুরু হয়। কেন্দ্রটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ২০০৭ সালে। কেন্দ্রটি থেকে কখনো ১১০ মেগাওয়াট আবার কখনো ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো।

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসে। আরপিসিএল-এর কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্রটি থেকে বেশ কিছুদিন ধরে সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় এক মাসেরও বেশি কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন শূন্যে নেমে এসেছে। যার প্রভাব পড়েছে ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায়। এতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ অসহনীয় মাত্রায় বেড়েছে।

গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ময়মনসিংহ জেলা শহরেও দিনের বিভিন্ন সময়ে কয়েক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে। নগরীর চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোমেনা হক জানান, দিনে ও রাতের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকাটাই এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। সন্তানদের পড়াশোনায়ও বিঘ্ন ঘটছে। নগরীর সিকেঘোষ এলাকার ব্যবসায়ী রিপন জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানে বেচাকেনাও কম। বাংলাদেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি শামসুদ্দোহা মাসুম বলেন, মুমূর্ষু রোগীদের অস্ত্রোপচারের সময় লোডশেডিংয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা আর শহর-নগরে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের বিষয়টি মানতে নারাজ ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী গোলাম হায়দার তালুকদার। যুগান্তরকে তিনি জানান, শম্ভুগঞ্জের ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরপিসিএল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি চালু থাকলে এ অঞ্চলে লোডশেডিং হয়তো থাকত না।

ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানান, শম্ভুগঞ্জের বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বর্তমান চাহিদার এক-চতুর্থাংশ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে শম্ভুগঞ্জ আরপিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম রাশেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ