ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ , ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​লোডশেডিংয়ের কারণে বরফ সংকট, মাথায় হাত মৎস্যজীবীদের

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৮-০৮-২০২৬ ০৬:০৩:৪২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৮-০৮-২০২৬ ০৬:০৩:৪২ অপরাহ্ন
​লোডশেডিংয়ের কারণে বরফ সংকট, মাথায় হাত মৎস্যজীবীদের ​সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
সংকট যেন পিছু ছাড়ছে না জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীসহ ট্রলার মালিকদের। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) থেকে সাগরে ছোট সাইজের বেশ কিছু ইলিশ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। সাইজ খুব ছোট হলেও লোকসান কাটানোর আভাস মিলছে। কিন্তু এখন বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে বরফ সংকটে ফের সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা। 

গত দুই দিনে গড়ে দুই থেকে ছয় লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করেছেন তাঁরা। কিন্তু বরফ সংকটে সাগরে যেতে না পেরে মহিপুর-আলীপুর ঘাটে খাপড়াভাঙা নদীতে শতাধিক ছোট-বড় ট্রলার নোঙর করে আছেন। কখন বরফ পাবেন তাও জানেন না। বরফকল মালিকরা বলছেন, টানা অন্তত ২০-২২ ঘন্টা বিদ্যুৎ পেলে একবার বরফ উৎপাদন করলে দুই দিনের বরফ চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়। বন্দরের অন্তত ২৫-২৬টি বরফকলে এখন বরফ উৎপাদন নেই দশ শতাংশ। মৌসুমের পুরো সময়টা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সতর্ক সংকেত, সাগর উত্তাল, তার উপরে মাছের আকালসহ নানা সংকটে ছিলেন জেলেরা। এখন মাছ কিছু মিললেও বরফ সংকটে তারা আহাজারি করছেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরে এমন দুরবস্থায় রয়েছে দ্বিতীয় বৃহত্তম পেশার এই জনগোষ্ঠী। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জেলেজনগোষ্ঠীর দুরবস্থার এমন খবর মিলেছে।

চরমোন্তাজ এলাকার মাঈনুল মেম্বারের মালিকানাধীন নম্বরবিহীন ট্রলারের মাঝি দুলাল মিয়া জানালেন, বৃহস্পতিবার ছোট সাইজের ইলিশ প্রায় ছয় লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখন পর্যন্ত বরফ না পেয়ে প্রায় ২৪ ঘন্টা ঘাটে বসে আছেন। একই দাবি মাঝি আইয়ুব দফাদারের। তিনি ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করেছেন। কিন্তু বরফ সংকটে আবার সাগরে যেতে পারছেন না। ফারুক মাঝিও জানালেন, পাঁচ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করে ঘাটে বরফ সংকটে বসে আছেন। ১২-১৫ জন করে জেলে নিয়ে এসব বোট সাগরে যাওয়ার জন্য যেন উদগ্রীব হয়ে আছে। কারণ এ বছর পুরো মৌসুমে ইলিশ মেলেনি। সাগর উত্তাল ছিল। এখন বরফ নেই। কারেন্ট না দিলে এসব জেলে, ট্রলার মালিকসহ মৎস্যজীবীরা পথে বসে যাবেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করলেন।

মহিপুর বন্দর মৎস্য আড়ত মালিক সমবায় সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, গত দুই দিন ধরে অধিকাংশ আড়তে ৫০-৬০ মণ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০-২০০ মণ ইলিশের আমদানি হচ্ছে। কিন্তু বরফ সংকটে মাছ ঠিক রাখা যাচ্ছে না। আবার জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে যাবে, তাও পারছেন না। তিনি জানালেন, মাত্র একটি মাস সামনে আছে ইলিশের মৌসুম। গড়ে একেকটা বোট বড় জোড় ৪-৫ টা ট্রিপ দিতে পারবে। তাও আবহাওয়া ভালো থাকলে সম্ভব হবে। অথচ এখন কারেন্টের ভয়াবহ সংকট। তার ভাষায়, ‘আধঘন্টা থাকলে, দুই ঘন্টা লোডশেডিং। বিশেষ ব্যবস্থায় কয়েকদিন টানা বিদ্যুৎ সরবারের দাবি এই আড়ত ও ট্রলার মালিকের। তিনি নিজে জানালেন, আশাখালী থেকে কয়েক ক্যান বরফ এনে আড়তের মাছ সংরক্ষণ করেছেন।

একাধিক আইসপ্লান্টের (বরফকল) মালিক ও ম্যানেজারের দাবি কারেন্ট টানা ২০-২২ ঘন্টা সরবরাহ থাকলে সংকট কাটানো সম্ভব। এখানে কোটি কোটি টাকার সামুদ্রিক মাছ কেনাবেচা হয়। অথচ বিদ্যুৎ থাকে না টানা দুই ঘন্টাও। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ৬-৭ মেগাওয়াট বিদুৎ দেওয়ার দাবি মহিপুর-আলীপুরের বরফকল মালিক, ট্রলার মালিক, আড়তমালিকসহ হাজার হাজার জেলেদের। নইলে শত শত কোটি টাকার লোকসানের ধকল কাটিয়ে পেশায় ফিরে দাঁড়ানোর পথ থাকবে না-এমন দাবি এ পেশা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যবাসায়ীদেরও।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান জানান, জেলে ও মৎস্যজীবীদের বিদ্যুৎ সুবিধার বিষয়টি বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ