নেপালে কেন এই বিধ্বংসী বন্যা, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৭-০৮-২০২৬ ১২:১২:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০৮-২০২৬ ১২:১২:২৩ অপরাহ্ন
ছবি: সিএনএন
কয়েক মিনিটের মধ্যে শান্ত পাহাড়ি নদী রূপ নেয় প্রলয়ঙ্করী স্রোতে। পাহাড় ভেঙে নামে বরফ, পাথর ও কাদার ঢল; মুহূর্তেই তলিয়ে যায় সেতু, সড়ক ও জনপদ। নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পেছনে শুধু ভারী বৃষ্টি নয়, বরং ভূমিকম্প, তুষারধস, হিমবাহ হ্রদ ফেটে যাওয়া (GLOF) এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
নেপাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পর লেন্দে ও ভোটেকোশী নদীর উজানে বিশাল বরফ ও পাথরের ধস নামে। ধসে পড়া বরফ নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে দিয়ে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করে। পরে পানির প্রচণ্ড চাপে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে সৃষ্টি হয় হড়পা বান, যা মুহূর্তেই নিচের জনপদে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী তিব্বত ভূখণ্ডে ভূমিকম্পের কারণে হিমালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় তুষারধস শুরু হয়। বিপুল পরিমাণ বরফ লেন্দে নদীতে পড়ে জলপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে তীব্র স্রোত নেমে আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি নদীতে এ ধরনের আকস্মিক ঢল কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভয়াবহ বন্যায় পরিণত হতে পারে। পানির সঙ্গে নেমে আসা পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ ভূমিধসের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
জলবায়ু গবেষকদের ধারণা, এই দুর্যোগের অন্যতম কারণ হতে পারে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF) বা হিমবাহ হ্রদ ফেটে যাওয়া।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলছে। ফলে হিমবাহ হ্রদগুলোতে অতিরিক্ত পানি জমে প্রাকৃতিক বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এমন অবস্থায় ভূমিকম্প বা বড় ধরনের তুষারধস হ্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তা হঠাৎ ভেঙে গিয়ে নিচের অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, শুধু ভূমিকম্প নয়, জলবায়ু পরিবর্তনও নেপালের দুর্যোগকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। হিমালয় অঞ্চলে মেঘভাঙা বৃষ্টি, চরম আবহাওয়া এবং অতিবৃষ্টির ঘটনা আগের তুলনায় বেড়েছে।
এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ, বন উজাড় এবং নদীর অববাহিকায় দুর্বল অবকাঠামো নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ছে। সামান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও দ্রুত বড় ধরনের ভূমিধস ও জনপদ ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প, তুষারধস, হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ, অতিবৃষ্টি ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন—এই পাঁচটি কারণ একসঙ্গে কাজ করায় নেপালে সাম্প্রতিক বন্যা এতটা ভয়াবহ হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ হ্রদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, আধুনিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশসম্মত পাহাড়ি অবকাঠামো নির্মাণের বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন তারা।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স