দ্বৈত নাগরিকেরা কেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন না?
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৬-০৮-২০২৬ ০৪:১২:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৬-০৮-২০২৬ ০৫:৫৩:০৪ অপরাহ্ন
প্রতীকী ছবি
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বিএনপি সরকারের নতুন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।
বিএনপি সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়েছে। এতে চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। নতুন প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে হুমায়ুন কবিরও রয়েছেন। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তবে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর কয়েকটি গণমাধ্যমে তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন।
জবাবে হুমায়ুন কবির বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি। বরং তিনি জানতে চান, ‘কে এটা নিয়ে নিউজ করেছে, কার এত জ্বালা?’ তাঁর এমন মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে এক ব্যক্তি কীভাবে সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, কিন্তু মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন না কেন?
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিষয়টি সাংবিধানিক। কেননা যদি কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিক হন তাহলে উনি এমপি মন্ত্রী বা কোনো সাংবিধানিক পদে যেতে পারবেন না।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বা আনুগত্য থাকা অযোগ্যতার কারণ হতে পারে। আর যেহেতু মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সাধারণত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই নিয়োগ পান, তাই তাদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের সাংবিধানিক বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ ধারায় বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন।
অর্থাৎ সংসদ সদস্য নন বা টেকনোক্র্যাট কোটায় যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তাদেরও অন্তত সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
এই ধারার ব্যাখ্যায় সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সংসদ সদস্য হওয়ার যে যোগ্যতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রায় একই যোগ্যতা। যে কারণে এমপি পদে অযোগ্য হলে তিনি মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীও হতে পারবেন না।
বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, হুমায়ুন কবির শৈশব থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসের কারণে সেদেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এই কারণেই প্রশ্ন উঠেছে যে, হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার সময় অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কিনা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও এমপি হিসাবে নির্বাচন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন।
গত ছয় মাস প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। তাহলে কেন তিনি প্রতিমন্ত্রী হতে পারবেন না সেই প্রশ্নও ছিল বিশেষজ্ঞদের কাছে।
অন্যদিকে, উপদেষ্টা পদটি সাংবিধানিকভাবে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সমতুল্য নয়। এটি সরকারের একটি প্রশাসনিক বা পরামর্শমূলক দায়িত্ব। ফলে উপদেষ্টা হওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের মতো একই সাংবিধানিক শর্ত সবসময় প্রযোজ্য হয় না।
এ কারণে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো ব্যক্তি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারলেও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স