মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানলেই শত্রু, প্রতিবেশীদের ইরানের কঠোর বার্তা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৩-০৮-২০২৬ ০৪:১৪:২২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৩-০৮-২০২৬ ০৪:১৪:২২ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ কোনো দেশ যোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সময়ে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও কূটনৈতিক পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে মিসর।
শনিবার (২২ আগস্ট) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি এ সতর্কবার্তা দেন। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যেই তাঁর এ বক্তব্য এলো।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দিতে বিশ্বের সব দেশ, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে তেহরান। কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপে অংশ নিলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এমন পদক্ষেপের জবাবে ‘ভূমিকম্পের মতো’ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানোরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রেজায়ি জানান, ইরানের কৌশল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হবে। এতে সাড়া না দিলে ওই দেশের স্বার্থে আঘাত করা হবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দেন। ইরানকে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট দেশকে ‘ব্যাপক অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও বলেন, ‘আপনি হয় আমাদের সঙ্গে, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।’
ইরান থেকে পরিবহন করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কেনে চীন। তাই চীনের কাছ থেকেও সহযোগিতা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২৪ আগস্ট) নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা করার কথা রয়েছে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকে জাতিসংঘের স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর মার্কিন ‘সীমান্তের বাইরে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার’ চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের গৌণ নিষেধাজ্ঞার আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই।
এদিকে সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও প্রায় বন্ধ রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। পরে ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অস্পষ্ট।
এর মধ্যে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ফোনে কথা বলেছেন। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাঁরা উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক পথে ফেরার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ওমান ও ইরানের আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর বিষয়ও আলোচনায় আসে। মিসর বলেছে, এর লক্ষ্য বিভিন্ন উদ্বেগের সমাধান করে একটি বিস্তৃত ও টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করা।
এদিকে আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর সমাধান নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স