ঢাকা , বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ , ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতায় হোটেলে আগুন: নিহত বাংলাদেশিদের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৯-০৮-২০২৬ ০১:৩৮:০৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-০৮-২০২৬ ০৩:৩৪:২৮ অপরাহ্ন
কলকাতায় হোটেলে আগুন: নিহত বাংলাদেশিদের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা ছবি : সংগৃহীত
কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রাথমিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল নিহতরা সবাই বাংলাদেশি। তবে পরবর্তীতে এই সংখ্যায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে, নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি। একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। তাছাড়া স্থানীয়রাও জানিয়েছেন নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা আটজন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হোটেলের ভেতরে থাকা অনেকে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে শুরু হয় বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোটেলটিতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এ ঘটনায় কলকাতা পুলিশ মামলা করেছে। হোটেলের মালিক ও কয়েকজন কর্মচারীকে খুঁজছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর তারা পালিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

উদ্ধার অভিযানে হোটেল থেকে প্রায় ৬০ জনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। পরে হোটেলের ভেতর থেকে ৯ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। একটি এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও, আগুনের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।

আগুন লাগার পর দ্রুত হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অনেকে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। রাত ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসকে আগুনের খবর দেওয়া হয়।

খবর পাওয়ার পর চারটি ফায়ার ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।

ঘন ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজে ব্যাপক সমস্যা হয়। বিশেষ করে সিঁড়ি দিয়ে ওপরের তলায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এক পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, এ ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কেউ মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আটকে পড়াদের উদ্ধার করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে আগুনের কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলাতেও একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। ১৭ আগস্ট ভোরে তারাপীঠের হোটেল বিদেশিনীতে আগুনে অন্তত ৮ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

পাঁচতলা ওই হোটেলের নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে। সে সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। তারাপীঠ মন্দিরের পাশের পবিত্র পুকুরের কাছে হোটেলটির অবস্থান।

ওই ঘটনায় মেঘালয়ের একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। তাদের মধ্যে দুই শিশুও ছিল। পরিবারটি হোটেলের সর্বোচ্চ তলায় অবস্থান করছিল। আগুনের ঘটনা বুঝতে পেরে তারা শিশুদের নিয়ে একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিচে নামার সময় আগুনের কারণে তারা আটকা পড়েন।

সূত্র: এনডিটিভি

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

​কলকাতায় নিহত বাংলাদেশিরা সকলেই গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য
কলকাতায় হোটেলে আগুনে ৯ বাংলাদেশি নিহত
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ