ছোট হয়ে আসছে কুয়াকাটা সৈকতের পরিধি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৮-০৮-২০২৬ ০৫:৫০:৩৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-০৮-২০২৬ ০৫:৫০:৩৫ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
অব্যাহত ভাঙনে কুয়াকাটা সৈকতের পরিধি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। এ বছর রীতিমতো ভাঙনের তাণ্ডব চলছে। সৈকতে বেলাভূমের অন্তত ৩০ ফুট প্রস্থ এলাকা গত এক মাসে সাগরে ভেসে গেছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিদিন অস্বাভাবিক জোয়ারে সৃষ্ট উত্তাল ঢেউয়ের তাণ্ডব চলছে। সৈকতের শূন্যপয়েন্ট থেকে দুই দিকে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে সর্বত্র ধ্বংসের ছাপ। উপড়ে গেছে জাতীয় উদ্যান ঝাউবাগানের অসংখ্য গাছপালা। ট্যুরিজম পার্ক (ডিসি পার্ক) মসজিদ, মন্দির এলাকা, ইটবিছানো সড়ক, ট্যুরিস্ট পুলিশবক্সসহ আশাপাশের সকল ছোট-বড় স্থাপনা সাগরে বিলীনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শূন্যপয়েন্টের সরদার মার্কেটের স্থাপনার ওপর চার/পাঁচ ফুট ঢেউ আছড়ে পড়ছে। স্থাপনার বেড়াসহ অধিকাংশ স্ট্রাকচার ভেঙে গেছে। এসব এখন পর্যটকের জন্য ভয়ংকর ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে। হতাহতের মতো দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।
সৈকতের শূন্যপয়েন্টের চায়ের দোকানি সোলায়মান জানালেন, গত সাতদিনে উত্তাল সাগরের ভয়াল ঢেউয়ে তার দোকানটির জায়গা সাগরগর্ভে চলে গেছে। এখন তিনি চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন। তাঁর দাবি, গত ২০ বছরে সাগরের এমন দীর্ঘসময় ধরে ঢেউয়ের তাণ্ডব দেখেননি। প্রতিদিন দুই দফার জোয়ার যেন তাণ্ডব চালায়। এখন দীর্ঘ সৈকতজুড়ে এখন যেন ধ্বংসের ছাপ পড়ে আছে। জাতীয় উদ্যানের গেটসহ বাউন্ডারি দেয়ালের ভগ্নাংশগুলো মৃত মানুষের কঙ্কালের মতো পড়ে আছে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় এখন পথ একটাই। স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার ভূমি মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, সৈকতের বর্তমান অবস্থার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম জানান, শূন্যপয়েন্টসহ আশপাশে কিছু এলাকায় ঢেউয়ের তোড় ঠেকাতে জরুরি প্রটেকশনের জন্য জিও ব্যাগ দেয়া হচ্ছে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স