মিরসরাইয়ে গ্যাসের তীব্র সংকট, মহাসড়কে ৩ কিলোমিটার যানবাহনের সারি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৪-০৮-২০২৬ ০৬:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৪-০৮-২০২৬ ০৬:৫০:২৭ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
ভোররাত থেকে মহাসড়কের পাশে সারি সারি গাড়ি। কারও চোখে ঘুম নেই, কারও মুখে ক্লান্তির ছাপ। গ্যাসের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না স্বস্তি। একদিকে গাড়ির জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে দীর্ঘ অপেক্ষায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চালকদের আয়-রোজগার। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গ্যাসের তীব্র সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সংকটের প্রভাবে উপজেলার বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে গ্যাস নিতে চলমান ফিলিং স্টেশনে ভিড় বাড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে তৈরি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে অপেক্ষা করায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও ভোগান্তি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন গ্যাস নেওয়ার জন্য মহাসড়কের ওপর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো চালক পাঁচ ঘণ্টা, কেউ ১০ ঘণ্টা আবার কেউ এর চেয়েও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। গ্যাসের সংকট শুধু চালকদের ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়ছে তাঁদের পরিবারেও। দীর্ঘ সময় গাড়ি নিয়ে লাইনে আটকে থাকায় একদিকে যেমন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে আয় বন্ধ থাকায় পরিবারের দৈনন্দিন খরচ, গাড়ির কিস্তি ও সন্তানের পড়ালেখার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চালকরা।
চালকদের দাবি, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় গ্যাস সংকটের পাশাপাশি মহাসড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০০ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে কিছু যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে পাম্প বন্ধ করে দেওয়ারও অভিযোগ করেন তাঁরা।
সিএনজি অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ ঈশান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ২ টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। শুক্রবার দুপুর ১২ টায়ও পাম্প থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে আছি। কখন গ্যাস পাব, সেটাও জানি না। এতক্ষণ গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে আমাদের আয়-রোজগার কীভাবে হবে?’
মাইক্রোবাসচালক তারেক হোসেন বলেন, ‘গ্যাসের জন্য গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছি না, ভাড়াও নিতে পারছি না। পাম্পে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও যদি গ্যাস না পাই, তাহলে পরিবারের খরচ চালাব কীভাবে?’
তবে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে গ্যাস দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চলমান ফিলিং স্টেশনের তত্বাবধায়ক ইঞ্জিনিয়ার সুমন। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে গ্যাস দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনকে শুধু ভিআইপি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে প্রতিদিন আমাদের পাম্পে চার শতাধিক যানবাহন গ্যাস নিতে আসত। বর্তমানে আশপাশের উপজেলাগুলোর অনেক পাম্পে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সেসব এলাকার যানবাহনও এখানে আসছে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় চাপ অনেক বেড়ে গেছে।’
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স