ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ , ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ পাল্টে রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার দাবি বিজেপির

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৩-০৮-২০২৬ ০২:৪৮:০৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৩-০৮-২০২৬ ০২:৪৮:০৪ অপরাহ্ন
​‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ পাল্টে রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার দাবি বিজেপির ​ছবি: সংগৃহীত
ভারতের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার দাবি উঠেছে দেশটির সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি ও রাজ্যসভার সদস্য শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ’ শুধু একটি নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশভাগ, পৃথক রাজ্য গঠন এবং বাংলার হিন্দুদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ভূখণ্ডের দাবির ইতিহাস।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজ্যসভায় কেরালার নাম পরিবর্তন করে ‘কেরালম’ করার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। কেরালার নাম ‘কেরালম’ করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, কয়েক দশক ধরে ওই রাজ্যের মানুষ নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকাও প্রশংসা করেন তিনি।

বিজেপির এ নেতা অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার একসময় বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে রাজ্যের নাম শুধু ‘বেঙ্গল’ করার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে বিজেপি সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল। বাংলাকে ভাগ করে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পেছনে সে সময়কার রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। 

তার দাবি, বাংলার হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি পৃথক রাজ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বও বলেছিল।

তার ভাষ্য, রাজ্যের নাম শুধু ‘বেঙ্গল’ করা হলে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত মানুষের সংগ্রাম এবং সে সময়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে অসম্মান করা হবে। তাই ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর পরিবর্তে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামই রাখা উচিত।

রাজ্যসভার আলোচনায় তিনি ‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, বাংলার ইতিহাসে যেমন ‘বন্দে মাতরম’-এর সৃষ্টি রয়েছে, তেমনি এ গানকে ঘিরে বিরোধিতার ইতিহাসও রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুজাফফর আহমেদের আত্মজীবনীর উল্লেখ করেন। তার দাবি, মুজাফফর আহমেদ ‘বন্দে মাতরম’ এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ সম্পর্কে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। একজন মুসলিম হিসেবে তিনি ওই রচনাগুলোকে গ্রহণযোগ্য মনে করেননি বলেও দাবি করেন শমীক।

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের দাবির পাশাপাশি বিহারের রাজধানী পাটনার নাম পরিবর্তন করে ‘পাটলিপুত্র’ করার দাবিকেও সমর্থন জানান তিনি। একই আলোচনায় রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার সদস্য উপেন্দ্র কুশওয়াহাও পাটনার ঐতিহাসিক নাম ফিরিয়ে আনার পক্ষে মত দেন। 

তিনি বলেন, প্রাচীন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র। তাই বর্তমান ‘পাটনা’ নামের পরিবর্তে ঐতিহাসিক নাম পুনর্বহাল করা উচিত।   

কেরালার নাম ‘কেরালম’ করার উদ্যোগ নিয়েও রাজ্যসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যরা বক্তব্য দেন। 

আলোচনায় অংশ নেন তেলুগু দেশম পার্টির বিজয় চিন্তাকায়ালা, সিপিআইএমের এ এ রহিম, বিজেপির সুধাংশু ত্রিবেদী ও লাহার সিং সিরোয়া, কেরালা কংগ্রেসের জোস কে মাণি, সিপিআইয়ের সদোশ কুমার পি, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের হারিশ বিরান, ইউপিপিএলের আর নারজারি এবং ডিএমডিকের এল কে সুধীশ।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে এবং পর্যটন প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপিও আলোচনায় অংশ নেন।

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও এ নিয়ে একাধিকবার রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে। তবে এবার বিজেপির রাজ্য সভাপতির পক্ষ থেকে রাজ্যসভায় সরাসরি ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর পরিবর্তে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামের দাবি উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

শমীক ভট্টাচার্যের মতে, নাম পরিবর্তনের প্রশ্নটি কেবল ভাষাগত নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাস, পরিচয় এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য। ফলে রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার দাবির মধ্য দিয়ে বিজেপি আবারও বাংলার দেশভাগ ও রাজ্য গঠনের ইতিহাসকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ