রাজনৈতিক জোকার ছিলেন ওবায়দুল কাদের: চিফ প্রসিকিউটর
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১২-০৮-২০২৬ ০৭:১৩:৫৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-০৮-২০২৬ ০৭:১৩:৫৭ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজনৈতিক জোকার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পলাতক সাত আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এই মামলায় দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করা হয়েছে।
শুনানি শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, তখনই নিজেদের প্রথম শ্রেণির এবং অন্যদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবতো। এছাড়া দেশের ইতিহাসে একজন রাজনৈতিক ‘জোকার’ বা পলিটিক্যাল ক্লাউন হলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কারণ তার বিভিন্ন সময়ের কথাবার্তা কোনও রাজনৈতিক নেতাসুলভ বক্তব্য নয়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহৃত হয়। তার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘একজন টিকটকার হিসেবে তাকে সবাই অভিহিত করেন। তার বক্তব্যকে টিকটকাররা ব্যবহার করেন। তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য-কর্মকাণ্ডের কারণে জুলাই আন্দোলনে ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।’
মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তারা রাজনৈতিক ছদ্মবেশে প্রকৃতপক্ষে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তারাও এরকমই দায়িত্বজ্ঞানহীন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের ছদ্মবরণে তারা ছিলেন দুর্বৃত্তপরায়ণ, দুর্নীতিবাজ ও দুষ্কৃতকারী। তারা প্রত্যেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন। তাদের ব্যক্তিগত দায় ও সুপিরিয়র কমান্ডের দায় রয়েছে। এ কারণে আমরা সাত আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছি। কেননা মামলার সব অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাজনীতি বন্ধে কড়া শাস্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশে তাদের মতো এমন দুষ্কৃতিপরায়ণ রাজনীতিবিদ আর ফিরে না আসুক। এরকম কোনও ব্যক্তি যেন বাংলাদেশে আর কখনোই রাজনীতি করার সাহস না পান। এসব কারণে তাদের বিরুদ্ধে আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছি।’
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য পলাতক আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
গত ২২ জানুয়ারি এই সাতজনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে উসকানিমূলক নির্দেশনা ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন, যার ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও নৃশংস সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স