ভোগান্তির জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ প্রতিমন্ত্রীর
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১১-০৮-২০২৬ ০২:৫০:২০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১১-০৮-২০২৬ ০২:৫০:২০ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে ভোগান্তির জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট থেকে আগামী দুই বছরের মধ্যে পুরোপুরি উত্তরণের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব কথা বলেন।
বর্তমান গ্যাসসংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল বা এফএসআরইউ বিকল হয়ে থাকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউটির একটি অংশ সচল রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে একটি বয়লারের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে পুরো এফএসআরইউ চালু করতে গেলে বর্তমানে যে বয়লারের মাধ্যমে উৎপাদন চলছে, সেটিও বন্ধ রাখতে হবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি পূরণে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী সাড়ে চার বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হবে।
দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে বাপেক্সকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
তবে সেমিনারে অংশ নেয়া জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা চলমান সংকট নিয়ে ভিন্ন ধরনের সতর্কতা দিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণের সহজ কোনো পথ নেই। দেশে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো না গেলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু সাময়িকভাবে সরবরাহ বাড়িয়ে চলমান সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। জ্বালানি খাতে কার্যকর সংস্কার ও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে না পারলে আগের সরকারের সময়কার ব্যর্থতার মতো পরিস্থিতির দায় বর্তমান সরকারকেও নিতে হতে পারে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স