১০৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে নামার অপেক্ষায় জেলেরা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৮-০৮-২০২৬ ০৩:২২:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৮-০৮-২০২৬ ০৩:২২:২৩ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
দীর্ঘ ১০৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নামছেন জেলেরা। এ নিয়ে রাঙ্গামাটির জেলেপল্লীগুলোতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি। জাল বোনা, মেরামত ও নৌকা রং করার ব্যস্ততায় জেলেদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই।
আগামী সোমবার (১০ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে ফের মাছ ধরা শুরু হবে। প্রতি বছর এই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন এবং অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য আহরণে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
শুধু জেলেপাড়াই নয়, কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে জেলার সবচেয়ে বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসি ঘাটও। মাছ পরিবহনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ড্রাম এবং বিএফডিসির পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে পন্টুন। মৎস্য শিকার, পরিবহন ও রাজস্ব আদায়ের যাবতীয় কাজ গুছিয়ে এনেছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ কর্মহীন জীবনের অবসান হতে চলায় আশায় বুক বাঁধছেন জেলেরা। জেলে হারাধন দাস বলেন, ‘দীর্ঘ ১০৫ দিন পর ১০ আগস্ট আমাদের কর্মহীন জীবনের অবসান ঘটবে। এ সময় আমাদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। ধারদেনা করে কোনো প্রকারে খেয়েপরে বেঁচে ছিলাম। আশা করছি এরপর সেই কষ্টের দিন আর থাকবে না।’
আরেক জেলে সাধন দাস বলেন, ‘আমরা শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি নিচ্ছি। অনেক আগেই নৌকা সংস্কার করে রেখেছি। পুরোনো জালের সেলাইয়ের কাজও শেষ। এখন নতুন জালের কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতদিন তো কষ্টের মধ্যে দিন কাটিয়েছি। মাছ ধরা শুরু হলে এই কষ্টের দিন শেষ হবে।’
ব্যবসায়ী পান্না সরকার বলেন, ‘আমাদের সব কাজ শেষ, বিশেষ করে মাছ পরিবহনের জন্য ড্রাম, গাড়িসহ সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ১০ তারিখ বিকেলে বরফ নিয়ে বোট মাছ আনার উদ্দেশ্যে রওনা করবে। আশা করছি এবার ব্যবসা ভালো হবে। তবে সবকিছু তো সৃষ্টিকর্তার হাতে। কারণ মাছ তো থাকে পানিতে, এগুলো তো আগে থেকে দেখার বা ধারণা করার কোনো সুযোগ নেই।’
সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে রাঙ্গামাটি বিএফডিসির উপব্যবস্থাপক মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদের মাছ জেলার ৪টি কেন্দ্রে অবতরণ করা হয়। আমাদের সব কেন্দ্র শতভাগ প্রস্তুত করা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে বরফকলে উৎপাদন শুরু হবে। মোট কথা সব প্রস্তুতি শেষ, এখন আমরা প্রহর গুনছি।’
তিনি আরও জানান, প্রথম ১৫ দিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মাছ অবতরণ করতে হবে। প্রত্যেক জেলে ও ব্যবসায়ীকে এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মাছ অবতরণ করতে হবে।
এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘প্রথমেই যাতে অতিরিক্ত মাছ ধরা না হয়, সেজন্য এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, জেলেরা প্রথম দিকে এত বেশি মাছ ধরেন যে বরফের অভাবে সেই মাছ ফেলে দিতে হতো। এতে একদিকে হ্রদের মাছ কমে যায়, অন্যদিকে মাছের অপচয় হয়। পাশাপাশি জেলে, ব্যবসায়ী ও বিএফডিসির লোকসান হয়।’
বিএফডিসির তথ্যমতে, কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ২৬ হাজার জেলে। এছাড়া মৎস্য অবতরণ ও পরিবহন কাজে যুক্ত রয়েছেন দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স