ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬ , ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ফলনধরা ১০টিসহ অন্যান্য ফলজ গাছ কর্তন

উদ্যোক্তা মোজাহিদুলের সৌদি খেজুরের বাগানে তাণ্ডব

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ১১:৪৬:১২ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ১১:৪৬:১২ পূর্বাহ্ন
উদ্যোক্তা মোজাহিদুলের সৌদি খেজুরের বাগানে তাণ্ডব ​সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
দিন রাত হার না মানা খাটুনিতে কোমর সোজা করে সফলতার পথে হাঁটছিলেন মোজাহিদুল ইসলাম। শিক্ষাজীবন শেষ করে প্রকৌশলী এই অদম্য যুবক চাকরির পেছনে ছুটেননি। দৃঢ় মনোবল নিয়ে রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে সৌদি খেজুর গাছের বাগান করেছিলেন। সফলতার মুখও দেখছিলেন। মার্কেটিং শুরু করেছিলেন। যখন সাফল্য ধরা দেয়; ঠিক তখনই এই উদ্যোক্তার স্বপ্ন্ ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। এক অমানুষ তার বাগানটি তছনছ করে দিয়েছে। কৃষি ফার্মটির গেট ভেঙে ফলনধরা ১০টি গাছ কুপিয়ে লন্ডভন্ড করে দেয়া হয়েছে। বাদ যায়নি আম, লঙ্গান, লেবু, ফলন্ত অন্তত ১০টি কলাগাছ, মালবেরি গাছ। মাঝ বরাবর গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। ছড়াসহ অন্তত তিন ছড়া খেজুর কেটে নেয়া হয়েছে। যেন ধ্বংসের তাণ্ডব চালানো হয়েছে। আর খণ্ডিত গাছগুলো স্বাক্ষীর মতো নির্বিকার দাঁড়িয়ে আছে। যদিও কলাপাড়া থানা পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তি রবিউলকে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু মোজাহিদুলের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কী হবে? 

মোজাহিদুলের ভাষ্য ছিল, আমার শরীরের কোপ দিলেও ক্ষত হয়তো এক সময় শুকিয়ে যেত। কিন্তু জীবিকার অবলম্বন শেষ করে দেয়ায় তার এখন ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে গেছে। দুচোখে দেখছেন সর্ষেফুল। এমনকি ওই বাগানে কিংবা জমির ধারে ফের গেলে মুজাহিদুলকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। গত ৩০ জুলাই দিবালোকে বেলা ১১ টাকার দিকে মোজাহিদুলের জীবন-জীবিকার সব অবলম্বন এভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পৌরশহরের বাদুরতলী বাঁধঘাটের এই নৃশংসতা এখন কলাপাড়ার সর্বত্র আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মোজাহিদুল শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরির পেছনে ছুটেননি। একজন উদ্যোক্তা হয়েছিলেন। নিজের মেধা শ্রম আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যখন জীবিকার পথ সচল করছিলেন তখনই তার ওপর এই আঘাত করা হয়েছে। মোজাহিদুল এসব দৃশ্য দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে সরকার প্রধানসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের কাছে আকুতি জানিয়েছেন। প্রতিকার চাইছেন। চেয়েছেন যথাযথ বিচার ও ক্ষতিপূরণ। তিনি সবশেষ বধবার (৫ আগস্ট) কলাপাড়া থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন। যেখানে একমাত্র আসামি করা হয়েছে বাদুরতলী বাঁধঘাটের ৩২ বছর বয়সী মো: রবিউলকে। গ্রেপ্তার হওয়া রবিউলসহ তার পরিবার একটা মুচলেকাও দিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে, জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে মোজাহিদুলের কোন ক্ষতি হলে তার দায় তারা বহন করবেন। কিন্তু মুজাহিদুল ফের দাঁড়াতে পারবেন কিনা তা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। 

মোজাহিদুল এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তার অন্তত ১৫ লাখ ২৭ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। অভিযুক্ত রবিউল তাকে প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি দিয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

মোজাহিদুল জানান, ২০১৮ সালের সৌদি খেজুরের এই বাগান করার কাজ শুরু করেছেন। দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২২ সাল থেকে ফল ধরে গাছে। পূর্ণতা আসে। বিক্রি শুরু করেন। ২৪ সাল থেকে খেজুর গাছের চারাও বিক্রি শুরু করেন। স্বাবলম্বীতার পথে হাঁটছিলেন এই উদ্যোক্তা। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সফল খামারি হিসেবে তাঁকে সম্মানিত করেছে। কিন্তু তার ফার্মের ওপর মানবসৃষ্ট এই বিপর্যয় এখন সব যেন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। 

মোজাহিদুল জানান, বাদুরতলী বাঁধঘাটে দুই ভাই মিলে ২৭ শতক জমিতে এই বাগানটি করেন। যেখানে বর্তমানে সৌদি খেজুর বড় গাছ রয়েছে অন্তত ৭০টি, চারা গাছ রয়েছে দুই শতাধিক, আর সৌদি খেজুর গাছসহ বিভিন্ন ফলজ গাছের নার্সারি রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আরাফাত হোসেন জানান, তিনি ঘটনার পরই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি উদ্যোক্তা মোজাহিদুল ইসলামের খামার পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি খুবই কষ্টদায়ক। অমানবিক। ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করা হয়েছে। 

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাপাড়া থানার এসআই সুজন চক্রবর্তী জানান, একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ