ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬ , ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে সাত প্রাণহানি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৫-০৮-২০২৬ ১১:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০৫-০৮-২০২৬ ১১:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন
​শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে সাত প্রাণহানি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা ​ছবি: সংগৃহীত
প্রবল বর্ষণের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ওই অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্রীলঙ্কার পার্বত্য চা উৎপাদনকারী অঞ্চল। এলাকাটি এখনও গত নভেম্বরে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ওই দুর্যোগে প্রায় ৬৪০ জনের মৃত্যু হয় এবং দেশটির প্রায় ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল।

সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসে দুটি বাড়ি চাপা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বন্যার পানিতে ডুবে আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ১২৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, জলাবদ্ধ সড়ক অতিক্রম করে উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।

নুয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লাসহ শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য অঞ্চল বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এসব এলাকায় প্রায়ই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।

এর আগে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে একই অঞ্চলে কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সে সময়ও দেশজুড়ে স্কুল ও সরকারি অফিস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক দুর্যোগ আবারও প্রমাণ করল, অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক চরম আবহাওয়ার ঘটনার কারণে শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কবে পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ