ভোর হতেই পাখির কলতানে জেগে ওঠে যে গ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৪-০৮-২০২৬ ১২:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-০৮-২০২৬ ১২:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
ভোরের সূর্য ওঠার আগেই কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের কিশোরনগর গ্রামে শুরু হয় এক অন্যরকম সকাল। চারপাশজুড়ে ভেসে আসে শত শত বক ও পানকৌড়ির কিচিরমিচির কলতান। গাছের ডালে সারি সারি বাসা, সেখানে সদ্য ফোটা ছানাদের কোলাহল আর মা পাখিদের নিরন্তর খাবার জোগাড়ের ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে সেখানে প্রকৃতি যেন নিজেই এঁকেছে এক জীবন্ত পাখির রাজ্য।
বুড়িচং উপজেলা সদর থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ছোট্ট এই গ্রামটি মাত্র তিনটি বাড়ি নিয়ে গড়ে উঠেছে। তবে গত কয়েক বছরে এটি অতিথি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলে বক পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের বাড়ি ও আশপাশের বড় বড় গাছে এসে বাসা বাঁধে। এখানেই তারা ডিম পাড়ে, ছানা ফুটিয়ে বড় করে এবং মৌসুম শেষে আবার ফিরে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড়ির পুকুর পাড়ের বাঁশঝাড়, তেঁতুল, কদম, আম ও নারকেল গাছের ডালজুড়ে অসংখ্য পাখির বাসা। একই গাছে কোথাও সাদা বকের ঝাঁক, আবার কোথাও কালো পানকৌড়ির দল। মা পাখি খাবার নিয়ে ফিরলেই বাসায় থাকা ছানাগুলো মুখ উঁচু করে খাবারের অপেক্ষায় থাকে। পাখিদের অবিরাম কিচিরমিচির ও ওড়াউড়ি, ডানা ঝাপটানো আর ছানাদের ডাক পুরো এলাকাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় চার বছর ধরে নিয়মিতভাবে বর্ষাকালে অতিথি পাখিরা এখানে আসে। প্রতি বছরই তাদের সংখ্যা বাড়ছে। এ বছর আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় পাখির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আশপাশের বিল, পুকুর ও জলাশয়ে সহজে খাবার পাওয়ায় পাখিরা নিরাপদে অবস্থান করতে পারছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এলাকাটি সংরক্ষণ করা হলে একদিকে যেমন অতিথি পাখিরা নিরাপদ আবাস পাবে, অন্যদিকে প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠবে একটি ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শুরুর দিকে অল্প কিছু পাখি এসে এখানে বসতি গেড়েছিল। তবে প্রতি বছরই এদের সংখ্যা বাড়ছে। কেউ তাদের বিরক্ত করে না। পাখিদের নিরাপত্তার বিষয়টি স্থানীয়রা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তারা আরও জানান, অতিথি পাখিদের এই অভয়াশ্রমের কথা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এসে ভিড় করছেন। কেউ ভিডিও করছেন, কেউ বা ছবি তুলছেন। অনেকে আবার পরিবারের সদস্যদের নিয়েও এখানে ঘুরতে আসছেন। গত কয়েক বছরে স্থানটি ধীরে ধীরে আকর্ষণের এক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
পাখি দেখতে আসা দর্শনার্থী নাজমুল হাসান পলাশ বলেন, এক বন্ধুর কাছ থেকে শুনে এখানে পাখি দেখতে এসেছি। একসঙ্গে এত বক ও পানকৌড়ি এত কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই বিরল। যথাযথ সংরক্ষণ করা গেলে এটি কুমিল্লার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।
বুড়িচং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তারেক মাহমুদ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলার কিশোরনগরের এই অতিথি পাখির আবাসস্থল পরিদর্শন করে সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স