ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ , ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্য টাইমসের প্রতিবেদন

মোজতবা খামেনি কোথায়, হন্যে হয়ে খুঁজছে মোসাদ-সিআইএ

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৬ ০৪:৪৩:২৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৬ ০৬:১৮:৩৭ অপরাহ্ন
মোজতবা খামেনি কোথায়, হন্যে হয়ে খুঁজছে মোসাদ-সিআইএ ​ছবি: সংগৃহীত
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ উচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক অভিযান চালাচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে না আসা, কোনও টেলিভিশন ভাষণ না দেওয়া এবং কঠোর যোগাযোগ-নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার কারণে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তার অবস্থান ও ইরানের নেতৃত্বের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি গত ৮ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। সেখানে আরও দাবি করা হয়, তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর তাকে এই পদে বসানো হয়। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও স্বাধীন আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ নেই।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করছেন এবং কোনও ধরনের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবহার করছেন না। ফলে তার অবস্থান নির্ধারণ করা সিআইএ ও মোসাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ মাসে তার কোনও মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা অন্য কোনও ডিজিটাল কার্যক্রমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

দাবি করা হয়েছে, তিনি ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার না করে কেবল হাতে লেখা বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। এসব বার্তা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত বাহকের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়। ফলে তার যোগাযোগে আড়িপাতা বা চলাচল নজরদারি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থানের জল্পনা
গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ধারণার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি তেহরানের কোনও শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার অথবা ধর্মীয় নগরী কোমের কাছে টানেল নেটওয়ার্কে অবস্থান করতে পারেন।

কিছু সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার ধারণা, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর নিরাপত্তা কৌশল বা ‘ডিকয়’ ব্যবহার করছে, যাতে প্রকৃত অবস্থান গোপন রাখা যায়।

স্বাস্থ্য নিয়েও জল্পনা
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, কথিত হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে।

এতে দাবি করা হয়েছে, একাধিক নিখুঁত অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ওই হামলা চালানো হয়েছিল এবং সেখানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে মোজতবা খামেনি জীবিত এবং দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন- এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে।

নওরোজ উপলক্ষে প্রচলিত টেলিভিশন ভাষণ না দিয়ে তিনি টেলিগ্রামে সংক্ষিপ্ত লিখিত বার্তা প্রকাশ করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই সাক্ষাতের সময় ও পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আইআরজিসির প্রভাব বেড়েছে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার জনসমক্ষে অনুপস্থিতির মধ্যে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কার্যক্রমে আরও বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর নৌপথ, পারমাণবিক অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক উত্তেজনাকে ঘিরে ইরানের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনিকে ক্ষমতায় আনতে আইআরজিসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং তাকে তার বাবার তুলনায় আরও কঠোর অবস্থানের নেতা হিসেবে দেখা হয়।

তবে এসব তথ্যের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং দাবিগুলোর স্বাধীন আন্তর্জাতিক যাচাইও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। সূত্র: দ্য টাইমস

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ