ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬ , ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​কক্সবাজার সৈকতে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০১-০৮-২০২৬ ০৬:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০১-০৮-২০২৬ ০৬:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন
​কক্সবাজার সৈকতে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু ​ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে শৌভিক রায় (২৮) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে দরিয়ানগর এলাকায় সি স্পোর্টস পরিচালিত প্যারাসাইলিং পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শৌভিক খুলনা জেলার বাসিন্দা। তিনি ৯ সদস্যের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্যারাসেইলিং চলাকালে হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস থেকে শৌভিক ছিটকে সমুদ্রে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সি স্পোর্টস প্যারাসাইলিং কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী  জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত বছরের ৩০ আগস্ট দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে এক পর্যটক ঝাউগাছের ডগায় আটকে দীর্ঘ সময় ঝুলে ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও সে ঘটনার পরদিন জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ মে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের সময় এক পর্যটক দম্পতি সমুদ্রে ছিটকে পড়ে আহত হন। সে সময় প্রশাসনের দাবি ছিল, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে নিয়ম ভেঙে একসঙ্গে দুজনকে নিয়ে উড্ডয়ন করানো হয়েছিল। ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জাম জব্দ করে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই বছরের আরেক ঘটনায় এক নারী পর্যটক প্যারাসেইলিং চলাকালে সমুদ্রে পড়ে আহত হন। তখনো জেলা প্রশাসন নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। প্রশাসনের ভাষ্য ছিল, নিরাপত্তা বিধি না মেনে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা হচ্ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালিত হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো নজরদারি নেই। একের পর এক দুর্ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলামে বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর, নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা, কার্যকর মনিটরিং এবং কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে। নিরাপত্তা মান যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রেখে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে উপস্থিত হওয়া জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন) মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান সায়েমকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর না দিয়ে চলে যান।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ