ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬ , ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌসুমের শেষ সময়ে জমজমাট সাপাহার আম বাজার

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০১-০৮-২০২৬ ০২:১৭:৫২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০১-০৮-২০২৬ ০২:১৭:৫২ অপরাহ্ন
মৌসুমের শেষ সময়ে জমজমাট সাপাহার আম বাজার ছবি : সংগৃহীত
গেলো কয়েক বছরে আম উৎপাদনে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে উত্তরের জেলা নওগাঁ। এ জেলার সাপাহারে গড়ে উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ আমের হাট। চলছে এখম মৌসুমের শেষ সময়ের কেনা-বেচা। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আমের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এই বাজারে প্রতিদিন এখানো প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে। শেষ সময়ে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বস্তির হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।

আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর প্রচণ্ড গরমে প্রায় সব আমই প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই পাকতে শুরু করে। ফলে ভরা মৌসুমে আমের দাম কম ছিলো। কিন্তু মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বাজারে আমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। যতদিন যাবে আমের সরবরাহ কমবে, দাম বাড়বে।

সাপাহার আমের হাট ঘুরে দেখা গেছে, ভরা মৌসুমের মতোই চাষিরা ভোর থেকেই ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যানবাহনে ক্যারেট ভর্তি আম নিয়ে এসে বিক্রির জন্য বসে আছেন। তবে আমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আমের দাম নিয়ে চলে দর-কষাকষি তীব্র প্রতিযোগিতা।

বর্তমানে বাজারে ব্যানানা ম্যাঙ্গো, আশ্বিনা, গৌড়মতি, কাটিমন ও বারি-৪ আম কেনাবেচা হচ্ছে। তবে আম্রপালি আম অল্প কিছু পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আম্রপালি আম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ব্যানানা ম্যাঙ্গো মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা মণ, বারি-৪ আম ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা মণ, আশ্বিনা বিক্রি হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা, গৌড়মতি ও কাটিমন আম ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

আম চাষি সিরাজুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে এবার আমের দাম কম ছিলো। তবে আমের মৌসুম শেষ পর্যায়ে চলে আসায় দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তারপরও আম উৎপাদনে যে পরিমান খরচ হয়েছে সেই তুলনায় প্রথম দিকে আম বিক্রি করে অনেকের লোকসান হয়েছে।

আরেক আমচাষি রুবেল হক বলেন, সাপাহার আম বাজারে এখনো প্রতিদিন ভালো আম আসছে এবং বিক্রিও হচ্ছে। সকাল হলেই বাজারের আশপাশ আমের ভ্যানে ভর্তি হয়ে যায়। এবার আমার আড়াই বিঘা জমির মধ্যে দেড়বিঘা জমিতে আম্রপালি জাতের আম চাষ করেছিলাম। কিন্তু ভালো দাম পাইনি। তবে এক বিঘা জমিতে বারি-৪ জাতের আম ছিলো। বর্তমানে আমের সরবারাহ কিছুটা কম থাকায় এখন ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন,আমের মৌসুম এখন শেষভাগে। শুধু নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম পাওয়া যাচ্ছে। সাপাহারে বর্তমানে অল্প কিছু আম্রপালি পাওয়া গেলেও সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। যত দিন যাবে আম সরবরাহ কমবে, দাম বাড়বে। শেষ সময়ে চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, নওগাঁ বরেন্দ্র অঞ্চলভুক্ত এলাকা। মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণেই এখানকার আম প্রচুর সুস্বাদু হয়। শেষ মুহূর্তে এসে চাষীরা বেশি দামে আম বিক্রি করতে পেরে লাভবান হচ্ছেন। লেট ভ্যারাইটিজ আম চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় চাষিদের লেট ভ্যারাইটিজ আম চাষের কলাকৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যাতে মৌসুম শেষে ভালো দাম পায়।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৫ টন। চলতি বছর জেলায় প্রায় ৬  হাজার কোটি টাকার আমকেন্দ্রিক বাণিজ্যের আশা।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ