ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬ , ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত অনেক শিশু

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০১-০৮-২০২৬ ০১:০২:৫১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০১-০৮-২০২৬ ০১:০৩:৪০ অপরাহ্ন
আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত অনেক শিশু ​ছবি: সংগৃহীত
আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে অনেক নবজাতক প্রয়োজনীয় মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য উদ্বেগজনক।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই কথা বলেন। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো-‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান : টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে পরিবারে শিশুর লালন-পালন এবং মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সচেতনতা ছিল, আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চর্চা অনেক ক্ষেত্রে কমে এসেছে। জন্মের পরপরই নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা, কর্মব্যস্ততা এবং পরিবর্তিত জীবনধারার কারণে অনেক মা শিশুকে প্রয়োজনীয় সময় মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারছেন না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নবজাতকের জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই শালদুধ পান নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, মায়ের দুধ শিশুর সর্বোত্তম ও প্রাকৃতিক খাদ্য। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি ও শারীরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি শিশুর খাদ্য হিসেবে মায়ের দুধের পরিবর্তে বাজারজাত বিকল্প খাদ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানোর আহ্বান জানান। একই সাথে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের সচেতনতা কার্যক্রম সারা বছর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা গেলে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়বে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল নিশ্চিত করতে এখনও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। নিয়মিত মাতৃদুগ্ধ পান করালে মায়েদের স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনার মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ