আরেকটি এলএনজি টার্মিনালের কাজ পাচ্ছে চীন
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৯-০৭-২০২৬ ১০:৫৮:২৬ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-০৭-২০২৬ ১২:০৬:০৩ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
মাতারবাড়ীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল-এফএসআরইউ বসানোর কাজ পেতে যাচ্ছে চীনের প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিএনইই)। চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি জিটুজির আওতায় সিএনইইকে এই টার্মিনাল বসানোর কাজ দিতে যাচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। সিএনইইকে তৃতীয় এফএসআরইউ-এর কাজ দেওয়ার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনার জন্য জ্বালানি বিভাগের প্রস্তাব মঙ্গলবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন হয়।
মাতারবাড়ীতে এখন দুটি এফএসআরইউ আছে। একটি সামিট গ্রুপের, অন্যটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির। দেশের তীব্র গ্যাস সংকট কাটাতে ৫ বছর ধরে তৃতীয় বা আরও একটি এলএনজি টর্মিনাল বসানোর পরিকল্পনা করছে জ্বালানি বিভাগ। এই এফএসআরইউ বসানো নিয়ে ইতোমধ্যে সামিটের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি বাতিল করে দেয় বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। গত মার্চে এ নিয়ে সৌদি কোম্পানি আরামকোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও বাতিল করে জ্বালানি বিভাগ। এরপর গত মাসে জ্বালানি বিভাগ জিটুজি পদ্ধতিতে তৃতীয় এফএসআরইউ বসাতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরবসহ ১২টি দেশ ও কোম্পানির কাছে প্রস্তাব চায়। সেই প্রক্রিয়া মাঝপথে আটকে দেওয়া হয়।
সরকারি সূত্র জানায়, মাতারবাড়ীতে চীনের কোম্পানি সিএনইই এলএনজি টার্মিনাল বসানোর আগ্রহ দেখিয়ে ২৬ জুলাই জ্বালানি বিভাগে তাদের প্রস্তাব উত্থাপন করে। সিএনইই জানায়, তারা ২২ মাসে মাতারবাড়ীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বসাতে পারবে। তবে সেই ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউ (ভাসমান জাহাজ) তাদের কাছে প্রস্তুত নেই। এটি তৈরি করতে বছরখানেক লাগবে। সিএনইই কোনো ধরনের দরপত্র বা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নয়, জিটুজির মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বসাতে চায়।
সোমবার সিএনইইর একটি প্রতিনিধিদল ওই প্রস্তাব উত্থাপন করার পর এদিন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের বাণিজ্যিক বিভাগ জ্বালানি বিভাগকে একটি চিঠি দেয়। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, সিএনইই কোম্পানি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। সিএনইই জ্বালানি খাতে যে কোনো ক্রয়, অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে অভিজ্ঞ। সুতরাং তাদের কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে চীন সরকারের সুপারিশ রয়েছে।
মঙ্গলবার এ চিঠি চীনের দূতাবাস থেকে পাওয়ার পর এদিনই মাতারবাড়ীতে সিএনইইকে টার্মিনাল বসানোর প্রক্রিয়া চালানোর অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। বৈঠকে সেটি অনুমোদন হয়। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, কোনো টেন্ডার নয়, প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর ৯৯(২) এবং ১০৭(২) বিধি মোতাবেক জিটুজি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।
মাতারবাড়ীতে এফএসআরইউ বসাতে কমপক্ষে ৪৫ কোটি ডলার খরচ হবে। সেখান থেকে আমদানি করা এলএনজিকে রিগ্যাসিফিকেশন করে দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া যাবে। দেশে এখন যে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে, সেখান থেকে দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হতো। ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালে আগুন ধরে। এখন সেটি বন্ধ আছে।
বাকি টার্মিনাল দিয়ে দৈনিক গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এ কারণে সারা দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। দেশে ২১ জুলাইয়ের আগে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ করা হতো ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এখন হচ্ছে ২১৩ কোটি ঘনফুট। ১ আগস্ট এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হতে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরাসরি ক্রয়নীতিমালার আওতায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার ২০টি প্রস্তাব প্রত্যাখান করা হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স