শিক্ষক বিউটি রাণীর পাশে সহকর্মীরা, প্রতিবাদের প্রতীক সেই গান
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৭-০৭-২০২৬ ০২:৪৩:৫১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০৭-২০২৬ ০২:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সহকর্মীর একটি ভিডিও ঘিরে সমালোচনার জেরে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক শুরু করেছেন অভিনব প্রতিবাদ।
চার দশক আগের জনপ্রিয় গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হল আকাশে’ এখন তাদের প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কেউ গানের সঙ্গে ঝাড়ু দেওয়ার ভিডিও বানিয়েছেন, কেউ বা স্কুটি চালানোর ভিডিও দিয়েছেন, সেখানেও বাজছে আশির দশকের শেষের দিকের জনপ্রিয় এই গানটি।
ঘটনার সূত্রপাত সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক বিউটি রাণী পালের একটি ভিডিও নিয়ে। গত ২৩ জুলাই তিনি ফেইসবুকে কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন।
তাতে নীল রঙা শাড়ি পরে হাঁটতে দেখা যায় তাকে। ওই ভিডিওতে বাজছিল ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষের ‘সমালোচনার মুখে পড়েন’ তিনি।
এরপর দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষিক এ গান ব্যবহার করে নিজেদের নিয়ে তৈরি করা ভিডিও ফেইসবুকে প্রকাশ করে বিউটি রাণীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন।
চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক শুক্লা মজুমদার যে ভিডিও পোস্ট করেছেন, তাতে ঝাড়ু হাতে স্কুলটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের তালে নাচতে দেখা যায়।
ক্যাপশনে শুক্লা মজুমদার লেখেন, সিলেটের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পালের সুন্দর ভিডিও যাদের ভালো লাগেনি তাদের জন্য নতুন সংশোধিত সংস্করণ।
গাজীপুরের আক্তারবানু হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক লক্ষ্মী সুত্রধরও একই গানের তালে একটি ভিভিও পোস্ট করেছেন।
ক্যাপশনে তিনি লেখেন, একজন শিক্ষিকারও নিজের জীবন আছে। বিউটি পাল ম্যামের প্রতি সহিংস সাংবাদিকতার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
রংপুর জেলার সহকারী শিক্ষক তিশা সেন নিজের স্কুটি চালানোর একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যার নেপথ্যে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি।
তিশা সেন লেখেন, হোক প্রতিবাদ, বিউটি রানীর জন্য। আপনারা কে কে স্কুটি ড্রাইভ করেন?
একই গান ব্যবহার করে নিজের একটি ভিডিও আপলোড করেছেন বগুড়ার সহকারী শিক্ষক মরিয়ম মুনতাসিম। তিনি ক্যাপশনে লেখেন, হোক প্রতিবাদ।
বরিশালের শিক্ষক শিউলি রানী একই গান ব্যবহার করে ভিডিও দিয়েছেন। যেখানে তিনি সমুদ্র সৈকতে গানটির তালে তালে হাঁটছেন।
ক্যাপশনে তিনি লেখেন, এই নেন.... যাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষদের এলিয়েন ভাবেন তাদের জন্য এই ভিডিও দিলাম....! আমরা শিশুদের নাচ, গান,অভিনয় শিখাতে হবে, কিন্তু আমরা ভিডিও দিতে পারব না! কারণ আমরা শিক্ষক! আমি শিক্ষক এবার নেন- এই ভিডিও আপনাদের জন্য। যাদের এখনও ধারণা শিক্ষক মানে গম্ভীর চেহারা আর বেত হাতে,চোখ রাঙানি তাদের বলছি - আমার আবার এসব ভালো লাগে না! আদর- শাসন দু'টো ই চাই আমি। তাদের জন্য এই ভিডিও। না মানে এলার্জি...... রোগীদের জন্য।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স