‘ককরোচরা’ কি এবার রাজনৈতিক দল তৈরি করছে?
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৬-০৭-২০২৬ ১১:১৪:৪১ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২৬-০৭-২০২৬ ১১:১৪:৪১ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
নিট পরীক্ষা দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) টানা এক মাসের তীব্র আন্দোলনের মুখে নতিস্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনের সব দাবি মেনে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সমঝোতায় আসার পর এবার কি পূর্ণাঙ্গ রাজনীতির ময়দানে নামবে এই তরুণ সংগঠনটি? —এমন প্রশ্ন এখন পুরো ভারতজুড়ে।
মোদি সরকারকে যে কৌশলে নতি স্বীকারে বাধ্য করলো ‘ককরোচরা’মোদি সরকারকে যে কৌশলে নতি স্বীকারে বাধ্য করলো ‘ককরোচরা’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিজেপির অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সরাসরি খারিজ না করে রসিকতার সুরে বলেন, “ভারতে কোনও কিছুতেই ‘না’ বলতে নেই!” তবে অপর মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্ট করেছেন, তাদের মূল লক্ষ্য এই মুহূর্তে রাজনীতি নয়, বরং ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনকে একদম তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া।
সাক্ষাৎকারে আশুতোষ রঙ্কা বলেন, “আমার মাথায় এখন একটাই চিন্তা— বাড়ি গিয়ে শান্তিতে ঘুমানো, একটু বিশ্রাম নেওয়া আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। গত দু’মাস ধরে বাড়ি থেকে দূরে আছি। এটি আমাদের সবার জন্য একটি গর্বের ও আনন্দের মুহূর্ত। পুরো বিষয়টি সামলে ওঠার পর আমরা পরবর্তীতে কী করা যায় তা দেখবো।”
অপরদিকে সৌরভ দাস বলেন, “আমাদের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। ভারতে ইতোমধ্যেই সাড়ে সাতশ’র বেশি রাজনৈতিক দল আছে, কিন্তু তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে না কেউই। আমরা এই আন্দোলনকে এমন একটি সামাজিক শক্তিতে রূপ দিতে চাই যেন ক্ষমতায় যে দলই আসুক না কেন, তারা তরুণদের দাবি মানতে বাধ্য হয়।”
প্রশ্নফাঁসের জেরে শিক্ষার্থীদের লাগাতার ক্ষোভ ও রাজপথের আন্দোলনের মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই পদত্যাগ ভারতের রাজনীতিতে এক বিরল ঘটনা। নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে কোনও বড় বিতর্কের মুখে কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের এটি মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ২০১৮ সালে #MeToo বিতর্কে পদত্যাগ করেছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর।
বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপির চূড়ান্ত বৈঠকে সরকারের সঙ্গে সব বিষয়ে আপস-রফা হয়।
সরকারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সমঝোতার মূল বিষয়
১. মামলা প্রত্যাহার: আন্দোলনের গত ৩৭ দিনে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ যত এফআইআর দায়ের করেছিল, তা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে কোনও মামলা দেওয়া হবে না।
২. ক্ষতিপূরণ প্রদান: প্রশ্নফাঁসের পর যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সরকারি সাহায্য ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
৩. আন্দোলন স্থগিত: সব দাবি পূরণ হওয়ায় দিল্লিতে যন্তর মন্তরের অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার ঘোষণা করেছে সিজেপি।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট অভিজিৎ দিপকের এক সময়ের একটি প্যারোডি অনলাইন ক্যাম্পেইন যেভাবে আজ পুরো ভারতে ছাত্রশক্তির নতুন ইতিহাস তৈরি করলো, তা দিল্লির রাজনীতির সমীকরণই বদলে দিলো।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স