ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চার পরিবহনের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৫-০৭-২০২৬ ০১:০৫:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-০৭-২০২৬ ০১:০৫:১১ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার ধামরাইয়ের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একটি নষ্ট যাত্রীবাহী বাস দেখে থামতে গিয়ে একে একে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে অন্তত চারটি পরিবহন৷ এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত তৃতীয় পরিবহন মোটরসাইকেলে পেছনের অপর যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দিলে দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালের দিকে মহাসড়কের ইসলামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, সকালে ইসলামপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মূল লেনে একটি বাস নষ্ট হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। বাসটির পেছনে থাকা একটি প্রাইভেটকার সেটি দেখে হঠাৎ ব্রেক করলে তার পেছনের একটি কাভার্ডভ্যানও ব্রেক করে। কাভার্ডভ্যানটির পেছনে ছিল দুটি মোটরসাইকেল। এরও পেছনে থাকা স্বাধীনতা পরিবহনের একটি মিনিবাস দ্রুতগতিতে এসে মোটরসাইকেলদুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের কাছে থাকা পরিচয়পত্র থেকে জানা গেছে, এর মধ্যে একজন মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী আবাস সাহা। তিনি সাভারের আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকার জগন্নাথ সাহার ছেলে।
অপর নিহত সুজয় সাহা মানিকগঞ্জের শিবালয় থানা এলাকার আশুতোষ সাহার ছেলে। তিনি উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি) পরীক্ষার্থী ছিলেন। তারা দুজনই একই পরিবারের ফুপাতো-মামাতো ভাই।
সাভার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধামরাই থানার এসআই তারেক বলেন, আমরা সকালে ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পাই যে ইসলামপুরে মহাসড়কের মূল লেনে একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা জানতে পারি। তবে আমরা এখনো হাসপাতালে যেতে পারিনি। বর্তমানে ঘটনাস্থলে কাভার্ডভ্যান, বাস এবং মোটরসাইকেল রয়েছে। বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। যেহেতু এটি হাইওয়ে পুলিশের অধিক্ষেত্র, তাই তারা এসে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, সবগুলো গাড়িই ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। তবে মূল কারণ হচ্ছে, নষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটি। বাসটি দাঁড়িয়ে থাকায় পেছনের প্রাইভেটকারটি শেষ মুহূর্তে সেটি দেখতে পেয়ে হঠাৎ ব্রেক করে। পেছনের গাড়িগুলোও একইভাবে হঠাৎ ব্রেক করতে বাধ্য হয়। এভাবেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স