আসামে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ৪৭, ক্ষতিগ্রস্ত ৭ লাখের বেশি মানুষ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৪-০৭-২০২৬ ১১:৪৭:০৪ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২৪-০৭-২০২৬ ১১:৪৭:০৪ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
ভারতের আসামে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। রাজ্যটির ১১টি জেলায় বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাত লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ। একই সঙ্গে পাঁচটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) আসামের দুর্যোগ প্রতিবেদন ও তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (ডিআরআইএমএস) প্রকাশিত সর্বশেষ বন্যা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো—কার্বি আংলং, গোলাঘাট, চরাইদেও, কামরূপ, শিবসাগর, জোরহাট, ডিব্রুগড়, নগাঁও, ধেমাজি, হোজাই ও কামরূপ (মেট্রো)। এসব জেলার প্রায় ৯০০টি গ্রাম এখনো বন্যাকবলিত।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর জেলা, যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। এছাড়া চরাইদেও জেলায় ১ লাখ ১০ হাজার ৭৫৫ জন, জোরহাটে ৯৭ হাজার ৬৯০ জন এবং ডিব্রুগড়ে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৪ হাজার ৮৯৭ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন ১০৬টি ত্রাণশিবির ও ৩৮১টি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রসহ মোট ৪৮৭টি কেন্দ্র চালু করেছে। বর্তমানে ২৪ হাজার ৪১৮ জন ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন এবং প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ৮২৬ জন ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে সহায়তা পাচ্ছেন।
বন্যায় মানুষের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে গবাদিপশুও। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৫টি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫৪০টি প্রাণী, যার মধ্যে ৫০০টি হাঁস-মুরগি রয়েছে, পানির স্রোতে ভেসে গেছে।
এদিকে বুরহিদিহিং, দিখৌ, ধানসিরি (দক্ষিণ) ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ডিসাং নদীর পানি সর্বোচ্চ বন্যাসীমাও অতিক্রম করেছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ১১১টি মেডিকেল দল, ৫৬টি নৌকা এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৪০৯ জন মানুষ ও ৩৫টি প্রাণীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স