ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ বলে শিক্ষার্থীকে বলাৎকার মাদ্রাসা শিক্ষকের

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২২-০৭-২০২৬ ১১:৩১:১৮ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০৭-২০২৬ ১১:৩১:১৮ পূর্বাহ্ন
‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ বলে শিক্ষার্থীকে বলাৎকার মাদ্রাসা শিক্ষকের ফাইল ছবি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (২৫) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্দেশ্যে সালিশ বৈঠকের চেষ্টা করলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকে হেফাজতে নেয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিং থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ, ভিকটিমের স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই সকালে মাদ্রাসাটির বড় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। সেদিন মাত্র পাঁচ শিশু মাদ্রাসায় শুয়ে ছিল। এরপর বেলা ১১টার দিকে মাদ্রাসার বড় হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করে। এ ঘটনা সেদিন অন্য শিশুরাও দেখে ফেলে। ভয়ে তারা সেদিন কাউকে কিছু বলেনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলে বিষয়টি মাদ্রাসার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে এ নিয়ে এক শিশুকে মারধর করে কাউকে কিছু না বলতে ভয়ভীতি দেখান শিক্ষক মোস্তাফিজ। মারধরের ঘটনাটি স্থানীয়রা টের পেলে বলাৎকারের ঘটনাটি সামনে চলে আসে। এরপর দুপুর ২টার দিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাদ্রাসায় সালিশ বৈঠক বসায় মাদ্রাসা কমিটি। সালিশে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ও এক বিএনপি নেতাসহ অন্য সদস্যরা ছিলেন। সালিশের বিষয়টি টের পেলে স্থানীয়রা মাদ্রাসায় ভিড় করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরেজমিনে তালোয়া মাদ্রাসায় দেখা যায়, প্রবেশপথ ও মাদ্রাসা চত্বরে উৎসুক জনতার ভিড়। একটি কক্ষে চলছে বৈঠক। এ সময় প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে সালিশ কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে সালিশে বসা মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ও অন্যরা কক্ষ থেকে বের হয়ে এসে বারান্দায় বসে আলোচনা শুরু করেন। সেখানে উপজেলা জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।

পুলিশ আসার আগে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘১২ তারিখ সকালে ঘুমিয়ে ছিলাম। সেসময় হুজুর এসে আমার সঙ্গে জিনা (বলাৎকার) করেছে। তখন আমি চোখ খুললে হুজুর মাথায় হাত দিয়ে বলে মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ।’ ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, স্বপ্ন দেখার কথা বলে হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান ১০ থেকে ১২ দিন তাকে বলাৎকার করেছে।

শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘হুজুর একাধিকবার ছেলেকে বলাৎকার করেছে। সেই খবর শুনে মাদ্রাসায় এসে দেখি সালিশ চলছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

সালিশ বসানোর কথা স্বীকার করে মাদ্রাসার সভাপতি মো. জু্লফিকার মাহমুদ বলেন, ‘দুপুরে ঘটনাটি জানতে পেরে অন্য সদস্যদের নিয়ে বৈঠক বসান হয়েছে। এখনো বিষয়টি স্পষ্ট নয়। আগামীকাল (বুধবার) সকালে আরও বড় পরিসরে সালিশ বসানো হবে।’

এমন ঘটনায় সালিশ করা যায় কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সালিশ করা যায়। আগে আমরা বসি। সমাধান না হলে পরে আইনের কাছে যাব।’

বিএনপি নেতা আব্দুল করিম বলেন, ‘আমি মাদ্রাসার সহসভাপতি। সেজন্য খবর পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আগামীকাল কমিটির সবাই মিলে আবার বসা হবে।’

তবে বলাৎকারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মিথ্যা বলছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমাদের মোবাইল টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। মোবাইল টিম ভিকটিম, ভিকটিমের বাবা এবং অভিযুক্ত হজুরকে থানায় নিয়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ভিকটিমের বক্তব্য অনুযায়ী প্রাথমিক সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ভিকটিমের বাবা উপস্থিত আছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ