ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২০-০৭-২০২৬ ০৬:০২:২৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২০-০৭-২০২৬ ০৮:১৪:০৩ অপরাহ্ন
মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ​ছবি: সংগৃহীত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, একই অপরাধে একজন ব্যক্তির সিভিল ও সামরিক—দুই আইনে পৃথক বিচার করার সুযোগ নেই। তাই জেনারেল কোর্ট মার্শালের (জিসিএম) মাধ্যমে সেনা আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরের শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তৎকালীন সময়ে সামরিক আদালতে বিচার হয়েছিল এবং সে বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত রয়েছে। তবে মোজাফফর দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন এবং ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে আত্মগোপন করে ছিলেন।

তিনি জানান, দেশে ফিরে আসার পর গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সেনা আইনে বিচারের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন হবে। একই মামলায় যাদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর হয়েছে, তাদের রায়ের আলোকে তার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে, তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল নির্ধারণ করবে।

মোজাফফরের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত বা ফৌজদারি মামলা হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে মিলিটারি অ্যাক্ট প্রযোজ্য। যেহেতু তিনি একই মামলার পলাতক আসামি ছিলেন, তাই সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরবর্তীতে কোনো বিষয় সিভিল কোর্টের এখতিয়ারে পড়লে তা আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং সীমান্ত সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্তে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় বিজিবির প্রস্তাব অনুযায়ী ১০৮ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে সীমান্তে ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবিকে আধুনিক মাইন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশটির সরকারি বাহিনী, আরাকান আর্মি, আরএসও ও আরসাসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের কারণে সীমান্ত এলাকায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওপার থেকে ছিটকে আসা গুলি ও মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকার সর্বক্ষণ নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারতের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্তের বাস্তবতা এক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমার সীমান্তকে আরও নিরাপদ করা জরুরি।

ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের অভিযোগ নাকচ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও সীমান্তবর্তী জনগণের সতর্ক অবস্থানের কারণে প্রতিটি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা কূটনৈতিক মাধ্যমে পাঠানো হলে জাতীয়তা যাচাই করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। তবে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না।

বিজিবির সক্ষমতা বাড়াতে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও যানবাহন সংগ্রহ, নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বাহিনীর বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ