ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​কালেমার পতাকা নিয়ে উগ্রবাদী তৎপরতার প্রমাণ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০৮:৩৩:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০৮:৩৩:০০ অপরাহ্ন
​কালেমার পতাকা নিয়ে উগ্রবাদী তৎপরতার প্রমাণ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ​ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবি হরফ লেখা পতাকা প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা হতে পারে, তবে বাংলাদেশে সংগঠিত জঙ্গিবাদী তৎপরতা বা বড় ধরনের কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের অস্তিত্ব নেই বলে সরকার মনে করে না।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আরবি হরফ লেখা পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় কারা জড়িত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু মানুষ ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করতে পারে। কিছু সংগঠনকে চরমপন্থি বলা যেতে পারে। তবে দেশে সংগঠিত জঙ্গিবাদী তৎপরতা বা বড় ধরনের কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের অস্তিত্ব আছে বলে সরকার মনে করে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদী বা মৌলবাদী কোনো শক্তির উত্থান ঘটতে দেওয়া হবে না।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে আরব আমিরাতে (ইউএই) একজন এবং ভারতে তিনজনসহ মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ ওসমান শরীফ হাদি হত্যা মামলার আসামিরাও রয়েছেন। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ও ওয়ারেন্টের কপি পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভারতের সাথে বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী সে দেশে আটক আসামিদেরও দ্রুত ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় আদালতে বেআইনি অনুপ্রবেশের মামলার কারণে ভারত কিছুটা সময় নিলেও চুক্তি অনুযায়ী মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেও আসামিদের প্রত্যর্পণ সম্ভব।

জুলাই-আগস্ট ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের তালিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সরকার পতনের প্রাক্কালে হাসপাতাল থেকে বহু নথিপত্র গায়েব, চিকিৎসায় বাধা এবং লাশ গুম করার কারণে প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা প্রায় ১৪০০ বলা হলেও সরকারের ধারণা এই সংখ্যা ২০০০-এর অধিক। বর্তমানে ডিএনএ টেস্ট ও গণকবর অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে, যার ফলে নথিবদ্ধ শহীদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি শহীদ ও আহতদের সুনির্দিষ্ট গেজেট ও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আহতদের ক, খ ও গ—এই তিন শ্রেণীতে বিন্যস্ত করে চিকিৎসাসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্ষাকালীন আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সাথে যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে বলে জানান।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ