ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব সাপ দিবস

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০২:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০২:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন
বিশ্ব সাপ দিবস ​ছবি: সংগৃহীত
সাপ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন অনেক মানুষ। যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে সাপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ভয়, রহস্য ও নানা কুসংস্কার।

পুরাণ, ধর্মীয় গল্প ও লোককথাতেও সাপকে কখনো ভয়ংকর প্রাণী, কখনো আবার শক্তি ও পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, সাপ প্রকৃতির শত্রু নয়; বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা একটি প্রাণী। এই প্রাণী সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা দূর করা এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতেই প্রতিবছর ১৬ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব সাপ দিবস।

ভয় নয়, সাপকে জানতে হবে
বিশ্বজুড়ে সাপের হাজারো প্রজাতি রয়েছে। অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশেই বিভিন্ন ধরনের সাপের বসবাস। বন, পাহাড়, মরুভূমি, জলাভূমি এমনকি সমুদ্রেও রয়েছে তাদের বিচরণ।

বর্তমানে বিশ্বে সাপের ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সব সাপ বিষধর নয়।

মাত্র একটি ছোট অংশের সাপ মানুষের জন্য বিপজ্জনক। অধিকাংশ সাপই মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে পছন্দ করে।

প্রকৃতিতে সাপের ভূমিকা
সাপকে প্রকৃতির দক্ষ শিকারি বলা হয়। তারা ইঁদুরসহ বিভিন্ন ছোট প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর ফলে কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।

বিশেষ করে কৃষকদের জন্য সাপ অনেক সময় উপকারী হয়ে ওঠে, কারণ তারা ফসলের ক্ষতি করা ইঁদুরের সংখ্যা কমাতে সাহায্য করে।

সাপের জীবনযাত্রা
সাপ শীতল রক্তের প্রাণী। তাই শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে তাদের বাইরের পরিবেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। ঠান্ডায় তারা রোদে উষ্ণতা নেয়, আবার গরমে ঠান্ডা ও নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেয়।

তাদের শরীরের বিশেষ গঠন বড় শিকারও সহজে গিলে ফেলতে সাহায্য করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো চামড়া ফেলে নতুন চামড়া ধারণ করাও সাপের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।

মানুষের ভয় কতটা যুক্তিসঙ্গত?
সাপকে অনেকেই আক্রমণাত্মক প্রাণী মনে করেন। কিন্তু বেশিরভাগ সাপই মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে চায়। সাধারণত ভয় পেলে, আটকা পড়লে বা নিজেদের জীবন হুমকির মুখে পড়লেই তারা আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ দেখলে না মেরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।

বিপদের মুখে সাপের অস্তিত্ব
বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল ধ্বংস ও মানুষের অসচেতনতার কারণে অনেক সাপের প্রজাতি বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।

একটি প্রজাতির হারিয়ে যাওয়া শুধু সেই প্রাণীর ক্ষতি নয়, এর প্রভাব পড়ে পুরো বাস্তুতন্ত্রে। তাই সাপ সংরক্ষণ মানে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখা।

সাপ নিয়ে কিছু মজার তথ্য
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সাপগুলোর একটি হলো বার্বাডোস থ্রেড স্নেক। অন্যদিকে সবচেয়ে লম্বা সাপ হিসেবে পরিচিত রেটিকুলেটেড পাইথন। সবচেয়ে ভারী সাপের মধ্যে রয়েছে গ্রিন অ্যানাকোন্ডা। আর বিষধর সাপের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় হলো কিং কোবরা।

সাপকে নিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য সিনেমা ও গল্প, যেখানে অনেক সময় তাদের ভয়ংকর হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সাপ প্রকৃতির একটি প্রয়োজনীয় অংশ।

বিশ্ব সাপ দিবস তাই মনে করিয়ে দেয়—সাপকে ভয় নয়, বরং সঠিকভাবে জানতে হবে। সচেতনতা ও সংরক্ষণের মাধ্যমেই মানুষ ও সাপের সহাবস্থান সম্ভব।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ