ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

পানিতে তলিয়ে গেছে মহাসড়ক: জাল ফেলে মাছ ধরছেন স্থানীয়রা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১০-০৭-২০২৬ ০১:৪১:৩৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-০৭-২০২৬ ০২:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন
পানিতে তলিয়ে গেছে  মহাসড়ক:  জাল ফেলে মাছ ধরছেন স্থানীয়রা ছবি : সংগৃহীত
টানা কয়েক দিনের অতি ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর, দোহাজারী বটতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পানিতে ডুবে রয়েছে। যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটিতে। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যস্ততম এই মহাসড়কের চন্দনাইশের বিভিন্ন অংশে প্রায় হাঁটুপানি। মহাসড়কের ওপর জমে থাকা পানিতে জাল ফেলে মাছ ধরছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর মধ্যেই ধীরগতিতে বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টিতে আশপাশের খাল-বিল উপচে পানি মহাসড়কে উঠে এসেছে। এতে স্থানীয় মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। গণপরিবহনের সংকটে অনেকে ভ্যানসহ বিকল্প বাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। দ্রুত পানি না নামলে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

স্থানীয় দক্ষিণ হাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা ছোটন দাশ বলেন, চট্টগ্রাম নগরে যাওয়ার জন্য তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তবে সড়কে পানি থাকায় কোনো যানবাহনই পাননি। পানি মাড়িয়ে প্রায় ২০০ মিটার হাঁটতে হয়েছে তাঁকে। এতে তাঁর জামাকাপড় ভিজে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজ না থাকলে তিনি বাড়ি থেকেই বের হতেন না।জানতে চাইলে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাঙ্গু নদের পানি কমাতে এখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। গতকাল মহাসড়কের চন্দনাইশ অংশ দুই থেকে আড়াই ফুট পানিতে তলিয়ে ছিল। তবে আজ পানি কিছুটা কমেছে। চালকেরা সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালাচ্ছেন। হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।

ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মহাসড়কের চন্দনাইশের অংশ ছাড়া আর কোথাও পানি নেই। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বৃষ্টি না হলে ও নদের পানি না বাড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসন জানায়, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার সব কটিই আংশিক প্লাবিত হয়েছে। সন্ধ্যা হলেই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ছে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, তাঁরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত ত্রাণসামগ্রী ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলার সব কটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানি না কমলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ