ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সবজিক্ষেত, বিপাকে হাজারো কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১০-০৭-২০২৬ ১২:৪৭:৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-০৭-২০২৬ ১২:৪৭:৫৮ অপরাহ্ন
টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সবজিক্ষেত, বিপাকে হাজারো কৃষক ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির প্রভাবে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বুড়িচং ও আদর্শ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

নদীর পানি কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ায় হাজারো কৃষকের সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে লাউ, চিচিঙ্গা, মুলা, ডাঁটা শাক, চালকুমড়া, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং সহস্রাধিক কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এবং আদর্শ সদর উপজেলার কাচিয়াতলী ও আমতলী এলাকার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন আগেও যেখানে সবুজে ভরা ছিল সবজির ক্ষেত, সেখানে এখন শুধু পানি আর পানি। কোথাও গাছের ডগা পানির ওপর দৃশ্যমান, আবার কোথাও ভেসে বেড়াচ্ছে নষ্ট হয়ে যাওয়া শাকসবজি। অনেক কৃষক কোমরসমান পানিতে নেমে সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার আগেই যতটুকু সম্ভব ফসল তুলে আনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকরা জানান, হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল রক্ষার কোনো সুযোগ পাননি তারা। অধিকাংশ সবজি এখনও বাজারজাত করার উপযোগী হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব অবস্থায় ফসল তুলে স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না।
 
বালিখাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল হক বলেন, ‘প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে আগাম জাতের মুলা ও লাউ চাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু গোমতীর পানি বাড়ায় তার পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। আরও দুই দিন পানি থাকলে কাদা চাপায় চারাগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।’
 
কাচিয়াতলী এলাকার কৃষক আবদুল জলিল বলেন, তার ডাঁটা শাক, পুঁইশাক ও চালকুমড়ার ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তার মতো ভান্তি, কামারখাড়া, বালিখাড়া ও আশপাশের অন্তত শতাধিক কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
 
কৃষক বাহার মিয়া বলেন, ‘লাউ, চিচিঙ্গা, মুলা, ডাঁটা শাক ও চালকুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি কাঁচা অবস্থাতেই তুলে নিতে হচ্ছে। পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে যা পারছি বিক্রি করছি। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
 
স্থানীয়দের ভাষ্য, গোমতী নদীর পানি এখনও ধীরে ধীরে বাড়ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে আমনের বীজতলা ও অন্যান্য কৃষি ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
 
জেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
 
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ‘গোমতী নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বাড়ছে এবং কয়েকটি নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
  
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ