চট্টগ্রামে ৩৩০.৮ মিমি বৃষ্টিপাত, তীব্র জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৭-০৭-২০২৬ ০৭:১৮:২৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৭-২০২৬ ০৭:১৮:২৫ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে নগরীর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় এ পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। একই সময়ে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার শুরু হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারেনি। ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
সকালের ভারী বৃষ্টির পর আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজীরহাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক কর্মজীবী মানুষ জুতা হাতে নিয়ে প্যান্ট গুটিয়ে হেঁটে কর্মস্থলে যেতে বাধ্য হন। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ও মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চকবাজারের অলিগলিতে পানি জমে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
আগ্রাবাদের বাসিন্দা জিয়া উদ্দিন বলেন, প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে, কিন্তু জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান এখনো মিলছে না।
বাকলিয়ার বাসিন্দা সুফিয়া কামাল জানান, সকালের বৃষ্টিতেই তাদের বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়ে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
চকবাজারের ব্যবসায়ী মো. কামাল বলেন, দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বর্ষা এলেই ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এদিকে অব্যাহত বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। মতিঝরনা, আকবরশাহ, ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর, জিয়ানগর, বেলতলীঘোনা, খুলশী, বায়েজিদ ও সলিমপুরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে এখনও অনেক পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবস্থান করছে।
পাহাড়ধসের আশঙ্কায় লালখান বাজার ও আকবরশাহ এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের একাধিক দল বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন, খাল ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থানে জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের কাজ করছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স