ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ , ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

টানা বর্ষণে ক্ষতির মুখে আমনের বীজতলা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৭-০৭-২০২৬ ০৩:০১:৩৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৭-০৭-২০২৬ ০৩:০১:৩৫ অপরাহ্ন
টানা বর্ষণে ক্ষতির মুখে আমনের বীজতলা ছবি : সংগৃহীত
নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঝালকাঠিতে জোয়ারের পানি আর টানা বৃষ্টিতে বদলে গেছে ঝালকাঠির জনপদের চিত্র। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল ও তলিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি। আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। অন্যদিকে নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতীরের অসংখ্য পরিবারের।

সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ঝালকাঠির আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি ও ঝড়ো বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের প্রভাবে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিষখালী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় পানি পৌঁছে গেছে বেড়ি বাঁধের কাছাকাছি। তলিয়ে গেছে নদীর তীরবর্তী এলাকার সড়ক ও ফসলি জমি। এতে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন কাজের সন্ধানে বের হন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন আমন মৌসুমের কৃষকরা। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানের বীজতলা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, পানি আরও বাড়লে রোপণের জন্য প্রস্তুত করা বীজ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

নদীতীরের বাসিন্দারা বলেন, ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়লেই আতঙ্কে থাকতে হয় তাঁদের। কখন যে ভাঙনের মুখে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, সেই শঙ্কা নিয়েই দিন কাটছে তাঁদের। তাঁরা দ্রুত কার্যকর নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

এদিকে বিষখালী নদীর তীরবর্তী চরভাটারাকান্দা এলাকায় নতুন করে নদী ভাঙনের আশংকা দেখা দিয়েছে। বিষখালী নদী তীরের রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া গ্রামের বাসিন্দারা নদী ভাঙ্গন রোধে কিছু স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যর্থ চেষ্টা করছে। বড়ইয়া গ্রামের আলমগীর হোসেন বাসস’কে বলেন, বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়লেই নদী তীরের বাসিন্দারের মধ্য আতঙ্ক বেড়ে যায়, কখন সব কিছু নদীতে তলিয়ে যায়। তিনি দ্রুত নদী ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মানের দাবি জানান।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশা বলেন, বিষখালী নদীর ভাঙন থেকে রাজাপুর এবং কাঠালিয়া উপজেলার নদী তীরের গ্রামগুলো রক্ষা করার জন্য  দুই হাজর কোটি টাকা বরাদ্দে ২২ কিলোমিটার দৈর্ঘের বেড়িবাধ নির্মাণ প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

প্রবল বৃষ্টির কারণে দিনমজুরদের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে। মাঠে পানি জমে যাওয়ায় অনেকের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।

স্কুলগামী শিক্ষার্থীদেরও পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে গ্রামীণ সড়কে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও স্কুলে যাওয়া-আসার পথও ডুবে গেছে। ঝালকাঠি শাহী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে গত দু’দিন ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতি কমে গেছে। বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিকের এবং প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছে না।

বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জসিম হাওলাদার বলেন, কষ্ট করে বীজতলা বানাইছিলাম। এখন পানিতে সব ডুবে গেছে। আর কয়দিন পানি থাকলে পুরোটাই নষ্ট হয়ে যাবে।

দিনমজুর জলিল বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কাম-কাজ বন্ধ। ঘরে খাবার জোগাড় করাই এখন কঠিন হয়ে গেছে।
ঝালকাঠি সদরের তারুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালাউদ্দিন সোহাগ বাসস’কে জানান, গ্রামের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। যার কারণে স্কুলে উপস্থিতি কম, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এতে আমনের বীজতলার কিছু ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁদের কাছেও তথ্য এসেছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং প্রয়োজনে কৃষকদের পুনরায় বীজতলা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হবে।

ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, বিষখালী নদীর ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমি পানি সম্পদ মন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি কিছু জরুরি বরাদ্দ দিয়েছেন। আমনের বীজতলা যাদের ক্ষতি হয়েছে তাদেরকে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সহায়তা দেয়া হবে।
  
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ